৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
নয়াদিল্লিতে ছাত্রাবাস ধসে নিহত ৫

মো. নূর নবী শেখ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল ছাত্রাবাস ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন আরও এক আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে এই সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।

ধসে পড়া ভবনটির ধ্বংসস্তূপে এখনো ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চলছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতার’ মতো গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটের দিকে নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় ভবনধসের খবর আসে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, পাঁচতলা ভবনটির নাম ছিল ‘হোস্টেল ডেজ’। প্রাথমিক খবরে ভবনটিকে ছয়তলা বলা হলেও পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা এটিকে পাঁচতলা বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাশের একটি ভবনও ধসে পড়েছে। ভবনের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ভবনে মোট কতজন ছিলেন, তা নিবন্ধনের রেকর্ড যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উদ্ধার অভিযানে দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি), সিটিএস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ভবনধসের ঘটনায় সন্ধ্যায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সিভিক সেন্টারে অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। ভবনধসের দায়ে এমসিডির কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ধারণা, ভবনটি ধসে পড়ার সময় ছাত্রাবাসের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নিজেদের কক্ষেই ছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com