মো. নূর নবী শেখ
চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারক সন্দেহে আটক ভিন দেশি ৬৩ জনের কারো কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা তাদের সবার পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে জমা আছে এবং সেই ব্যক্তিই তাদের ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিল।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ।
তিনি জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার যে ভবনটি থেকে তাদের আটক করা হয়েছে সে ভবনটির মালিক একজন প্রবাসী। দেড় মাস আগে তারা ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
আটক হওয়া ৬৩ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জন নারী রযেছে। তাদের মধ্যে লাউসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন ও চীনের পাঁচজন, ভিয়েতনাম এক, নেপাল এক নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার খুলশী থানা ও নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিউটের যৌথ অভিযানে অনলাইন প্রতারক সন্দেহে বিভিন্ন দেশের ৬৩ নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। যেগুলো ‘প্রতারণার’ কাজে ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশের ভাষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল বলেন, চীন, লাউস, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণা নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযান চলার কারণে প্রতারকরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন। তাদের সহায়তাকারী দেশি-বিদেশি আরও সহায়তাকারী রয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান করছেন।
আটক করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোন ধরনের অনলাইন প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে কিনা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, থমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া না গেলেও তাদের কাছ থেকে জব্দ করা আলামতগুলোতে দেখা গেছে তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েব সাইট ভিজিট করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক পর্যায়ে ধরে ফেলা হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে।
জবাবে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কারো কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের সকল পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে রাখা আছে। তাকে ধরা গেলে এবং পাসপোর্টগুলো জব্দ করা গেলে বলা যাবে তারা কীভাবে কখন এ দেশে এসেছিলেন।
পুলিশ জানায়, ভবনের যেসব ফ্ল্যাটে তারা থাকতেন সেখানে তারা বিভিন্ন ধরনের ‘ডিজিটাল ল্যাব’ তৈরি করেছিলেন। এ চক্রের সাথে সম্প্রতি ঢাকা ও কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেগুলো সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com