মাহবুবুর রহমান রানা
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় মোট ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
এর মধ্যে ৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক ভূঁইয়া জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নেই। তিনি ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি তাড়াইলে যোগদানের পর থেকে ৭ জন প্রধান শিক্ষক অবসরে গেছেন। এর আগে আরও ২৬ জন প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেন।
প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে।
প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় তাড়াইলের ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩টিতে এখনো নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর বাড়ছে প্রশাসনিক দায়িত্বের চাপ। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ এখন সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দাবি। শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রত্যাশা, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রতায় না রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com