২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
জুলাইয়ে আহত শিক্ষার্থীদের জন্য আড়াই হাজার কোটির প্রকল্প

মো. নূর নবী শেখ

জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাদের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের শিক্ষার মূল স্রোতের সঙ্গে ধরে রাখতে চায় সরকার।

এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প’। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প শুরু হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে। শেষ হবে ২০৩২ সালের জুনে।

বাধাহীন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শেখার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ঝরে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতোমধ্যেই এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এটি পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে মাউশি।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা হিসেবে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহতদের সহায়তা প্রদান এসবের একটি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষা উন্নয়ন দ্বিতীয় অঙ্গীকার। সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক গড়ে তোলা তৃতীয় অঙ্গীকার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই তিন লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের এই উদ্যোগ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সুশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষক উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো হবে।

মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এর ভিত্তিতে অবকাঠামো, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দিকসহ বাস্তবায়নযোগ্যতা নিরূপণ করা হবে। এ জন্য পৃথকভাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করতে চায় মাউশি। সমীক্ষা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মূল প্রকল্পের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত বাজেট নির্ধারণ করা হবে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com