২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
ট্রাম্পের ‘ধ্বংসের’ হুমকির পর ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক

মো. নূর নবী শেখ

ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই বৈঠক করেন। তবে আলোচনায় কারা ছিলেন বা সেখানে কী নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। পরে তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি কর্মকর্তারা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ ছিলেন না, তবে বৈঠকটি একটি অগ্রগতি।

উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা এক দলের কাছ থেকে অন্য দলের কাছে গিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেন। এই উদ্যোগ গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক ফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জুনে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অনেকটাই স্থবির ছিল। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় দুই দেশের আলোচকেরা পৃথকভাবে পরোক্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ট্রাম্প প্রস্তুত।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার আহ্বান জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে; অথবা তিনি দ্রুত ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস’ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাঁর ভাষায়, এ বিষয়ে তাঁর সামনে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প ইরান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের সময় ইরানের অধিকাংশ প্রতিনিধি জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

জাতিসংঘে বক্তব্যের পরও দিনভর কূটনৈতিক তৎপরতা চালান ট্রাম্প। তিনি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি সই করেন।

এ ছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও জাতিসংঘে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সংঘাতটি দ্রুত শেষ করার আশা করছেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি গ্রিডে রাশিয়ার হামলার বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য গত সপ্তাহে একটি আইনে সই করার কথাও জানান ট্রাম্প। প্রয়োজনে সেই আইন প্রয়োগ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার সময় এসেছে।’


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com