মো. নূর নবী শেখ
নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর অভিযানের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, প্রথম দফায় আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সিআর মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাসভবন থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেন বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমার। এর আগে ভান্ডারপুর বাজারে তাকে প্রথমবার আটকের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সে সময় অন্য একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিনি কেটে পড়েন। পরে গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তবে সফলভাবে আসামি গ্রেপ্তারের পরপরই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নওগাঁ জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশে স্থানীয় জনমনে বিভিন্ন আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, আসামি গ্রেপ্তারের কারণে নয়, বরং প্রথমবার অভিযানের সময় দায়িত্ব পালনে অসাবধানতা ও আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কারণেই এসআই অসিত কুমারকে ক্লোজ করা হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলার কারণেই প্রশাসনিক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় গুঞ্জন বা সমালোচনার কোনো সম্পর্ক নেই।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিনও বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে জানান, প্রথম দফায় আসামিকে আটক না করে চলে আসার একটি তথ্য পুলিশ সুপারের নিকট পৌঁছালে এসআই অসিতকে প্রত্যাহারের নির্দেশ আসে। অবশ্য পরে ওই এসআই নিজেই অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।
অন্যদিকে, প্রত্যাহার হওয়া এসআই অসিত কুমার এশিয়া পোস্টকে জানান, আসামিকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ বা গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
এদিকে গ্রেপ্তার রাকিবুল হাসানের মা রেহেনা পারভিন জানান, তার ছেলেকে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তিনি কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com