২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
আবহাওয়ার অবনতিতে ফের এলএনজি সরবরাহ হ্রাস, তীব্র গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

মো. নূর নবী শেখ

বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে ফের সরবরাহ কমে গিয়ে সারাদেশে গ্যাস সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহেশখালী গভীর সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে গ্যাস স্থানান্তর (ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণ (আরএলএনজি) ও সার্বিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫৯১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫৮৮ এমএমসিএফডি এবং এলএনজি থেকে আসছিল ১ হাজার ৩ এমএমসিএফডি।

অথচ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ কমে ২ হাজার ৩০১ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে। এই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি হলেও এলএনজি সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৮৬ এমএমসিএফডিতে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে আরএলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৭ এমএমসিএফডি, যা আগের স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম। তবে দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক ২৭ এমএমসিএফডি গ্যাস বেশি উৎপাদন হওয়ায় সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কম দেখানো সম্ভব হয়েছে।

পেট্রোবাংলা আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে সমুদ্রপথে এলএনজি খালাস কার্যক্রম পুনরায় পুরোদমে চালু হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com