মো. নূর নবী শেখ
চুরির অভিযোগে মেয়ের সামনে বাবাকে মারছে একদল মানুষ। এ সময় ক্ষুধার্ত সেই বাবার মুখে পরম মমতায় খাবার তুলে দিচ্ছে ৯ বছরের শিশুকন্যা। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কালবেলা অনলাইন নেপথ্য ঘটনা খুঁজতে গিয়ে ‘জমি-সংক্রান্ত বিরোধ’, অভিযুক্ত ব্যক্তির নেশার অভ্যাস এবং আগেও চুরি করে ধরা পড়ার তথ্য পেয়েছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তাদের বড় মেয়ে বাবাকে ওভাবে খাওয়ানোর পরও তার স্বামীকে স্থানীয় কয়েকজন মিলে পিটিয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা এভাবে ‘প্রতিশোধ’ নিয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, খুঁটিতে এক ব্যক্তি দড়ি দিয়ে বাঁধা। মলিন মুখে তার শিশুকন্যা মুখে রুটি তুলে দিচ্ছে। কখনো আবার চায়ের পানিতে ভিজিয়ে এবং ফুঁ দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। পাশ থেকে কেউ একজন বলছেন, ‘কল্লা জাগায়ে রুডি (রুটি) খা।’
কালবেলার উজিরপুর প্রতিনিধি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বামরাইলের দুই নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
চুরির অভিযোগে মারধরের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম অনিক সরদার। অনিকের প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তিনি আগেও এসব কাজ করে ধরা পড়েছেন। মূলত নেশাগ্রস্ত।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অনিকের বাবা হাইকোর্টে চাকরি করতেন। ভাই সৌদি আরবে থাকেন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। যে পরিবারে অনিকের বেড়ে ওঠা, তাতে তার চুরি করা লাগে না। কিছুদিন আগেও তার পরিবার ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঋণ শোধ করে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিও দেখার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওই চোরের স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দুই মেয়ের পিতা অনিক এখন হাসপাতালে ভর্তি। তাকে খাবার খাইয়ে দেওয়া বড় মেয়ে ভয়ে চুপসে গেছে। বাড়িতে কারও সঙ্গে সেভাবে কথা বলছে না।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দাবি করা হয়, অনিক বাজারের দোকানে চুরি করেছেন। গ্রামে গিয়ে জানা যায়, তাকে আটক করা হয় পাশের একটি বাড়ি থেকে। ওই বাড়ির লোকদের দাবি, অনিক গভীর রাতে জানালা দিয়ে ফোন নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়।
অনিকের স্ত্রীর অভিযোগ, যারা বাজারে নিয়ে তার স্বামীকে মেরেছে, তাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে। এসব কথা বলার সময় তিনি বিশেষভাবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন: হাকিম খন্দকারের ছেলে আয়াত খন্দকার, খাইরুল ইসলাম, আরিফ, হানিফ, সাকিব ও সাহিদ।
অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে এভাবে আঘাত করা আইনের চোখে অপরাধ। পুলিশ না ডেকে কেন এভাবে মারধর করা হলো-এমন প্রশ্নের মুখে আয়াত খন্দকার বলেন, ‘এর আগেও অনেক বার তাকে ছেড়ে দিয়েছি। এইবার ধরে গণধোলাই দিয়েছি। মেয়ের সামনে আমরা মারিনি।
তথ্য ও সূত্রঃ-কালবেলা
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com