২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করা হয়েছে : মীর শাহে আলম

মো. নূর নবী শেখ

দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও নড়াইলে কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে। এসব জেলা থেকে কোন দলের নেতারা নির্বাচিত হয়েছেন, তা সবাই জানে। তবে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও সিলেট বিভাগে সারের সংকট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের দামের কারণে তেল ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। তবে দাম বাড়ানোর পরও ভারতের তুলনায় দেশের তেলের দাম সমান হয়নি। বিশ্বের বাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও দাম কমানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সমস্যা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে বিদ্যুৎ সমস্যা পেয়েছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এর মধ্যেই ১১ দলীয় জোট রংপুরে লং মার্চ করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশে যদি তেলের সরবরাহ না থাকে, তাহলে লং মার্চের বহরে থাকা প্রায় দুই হাজার গাড়িতে জ্বালানি এলো কোথা থেকে? তাঁর ভাষ্য, লং মার্চ করে যদি তেল-গ্যাসের সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বড় লং মার্চ করতেন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সুচিন্তিত কোনো মতামত থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। তাঁর দাবি, সংসদে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে রাজপথের বক্তব্যের মিল নেই। সংসদে তারা বলছে বিএনপি তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, আবার রাজপথে গিয়ে ‘তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দিচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আগে সমালোচনা করলেও এখন সংসদে তাদের প্রতিনিধিরাই নিজ নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তা জানতে চাইছেন। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ডিসি-এসপিসহ সবার পরিবারের নারীরাও এ কার্ড পাবেন বলে জানান তিনি।

কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে তালিকাভুক্তির কাজ চলছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। চার ধাপে—ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কৃষকদের এ কার্ড দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বললেও ভোটের সময় ‘বেহেশতের লোভ’ দেখিয়েছে। কিন্তু তারা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কথা ভাবেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে আগামী চার বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে কিছু জেলায় এর পাইলটিং শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর মধ্যে জেলা পরিষদের স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও ছিল।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com