৩ অক্টোবর ২০২৬
preview
ফের উত্তপ্ত নয়াদিল্লি, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলা

মো. নূর নবী শেখ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভে উত্তপ্ত নয়াদিল্লি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে শনিবার (৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি; পরে কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবারের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয় সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন আইসা। শুক্রবারের বিক্ষোভের পর সংগঠনের নেত্রী নেহা বোরা আন্দোলনকারীদের আবার যন্তর মন্তরে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার দুপুর ১টা থেকে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আইসার নেতা কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া ঠেকাতে সকাল থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে কোনো ধরনের মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা মিছিল করে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে থাকেন। তাদের সঙ্গে আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং প্রশান্ত ভূষণসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিছিল মাঝপথে পৌঁছতেই পুলিশ তা আটকে দেয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

শুক্রবারও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। আম আদমি পার্টির পাশাপাশি কংগ্রেস এবং বাম দলগুলোর নেতা কর্মীরাও রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়।

পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও বচসার ঘটনাও ঘটে। এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতারা। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের দিল্লি চলো কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ককরোচ জনতার কর্মীরা দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন।

অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে।’ অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিনও নয়াদিল্লী উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com