মো. নূর নবী শেখ
বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট খেলেও স্পেনের গোলমুখে একটি শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই আক্ষেপই কি এবার মেটাচ্ছে দলটি? প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও প্রতিপক্ষকে এভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার মানসিকতা দেখে অন্তত তেমনটাই মনে হতে পারে। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪ গোলের পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।
লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনে—গোল করেছেন প্রায় সবাই। গোলের বাইরেও আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২৮টি শট নিয়েছে তারা, যার ১৬টি ছিল লক্ষ্যে।
তবে ম্যাচটি আদৌ মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। আর্জেন্টিনায় যাওয়ার কথা থাকা বুরকিনা ফাসোর চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফেডারেশন বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে গেলে জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাতে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
ফলে বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অ-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করেন। সেই দলে জাতীয় দলের ছিলেন মাত্র একজন—চেক বাবেল। ম্যাচ শুরুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় বুরকিনা ফাসোর দল। দলের সরঞ্জাম বিমানবন্দর থেকেই মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে খেলতে নামতে হয় ফুটবলারদের।
বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, হুট করে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেই মাঠে নেমেছিল বুরকিনা ফাসো। আর্জেন্টিনা সেই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেছে।
তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পান লাউতারো। তার প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, তবে ফিরতি বলেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড।
এর ছয় মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। ১২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। লাউতারোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
৩৪ মিনিটে চতুর্থ গোল আসে নিকো পাজের পা থেকে। ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ থ্রু পাস ধরে গোল করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। দুই মিনিট পর প্রেস্তিয়ানির পাস থেকে পঞ্চম গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ গোলে।
বিরতির পর একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বালেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ও সুলে মাঠে নামেন। উঠে যান রোমেরো, লিসান্দ্রো, হুলিয়ান, প্রেস্তিয়ানি ও নিকো পাজ।
৫৬ মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন মাস্তানতুওনো। লাউতারোর পাস পেয়ে গোলরক্ষক বেরিয়ে আসার আগেই বল জালে পাঠান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ফিওরেন্টিনার এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।
এরপর আরও একাধিক পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। নিকো গনসালেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে মাঠে নামেন। পরে সান্তি কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভ্যালেন্তিন বার্কোরও সুযোগ হয়। একে একে মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ দিকে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বদলে গোলপোস্ট সামলাতে নামেন হেরোনিমো রুল্লি।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সপ্তম গোল। দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডারদের গোল পাওয়ার দৃশ্যও টানা দুই ম্যাচে দেখা গেল আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই গোলশূন্য আক্ষেপ পুরোপুরি মুছে গেছে কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে গোলের উৎসব করে সেই জ্বালায় কিছুটা প্রলেপ যে পড়েছে, তা বলাই যায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com