৪ অক্টোবর ২০২৬
preview
সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘আমরা-মামুরা’ বললেন হাসনাত

মো. নূর নবী শেখ

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিকে ‘আমরা-মামুরা সংশোধন কমিটি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার (৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি সরকার, গণভোট ও প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটি আসলে একটি আমরা-মামুরা সংশোধন কমিটি। আপনারা দেখেছেন, সংস্কারের জন্য যারা দীর্ঘ যুগ ধরে বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, একটি চেয়ার, পদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে তাদেরও এখন কিনে নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে মানুষ তাদের মূল্যায়ন করবে, বিচার করবে এবং তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, ‘যিনি বলেছিলেন, গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মূলত মৌলিক সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রথম গণভোট মানতে চাননি। এক্ষেত্রে এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি কাজ করেছে।’

হাসনাতের দাবি, গণভোটের ফলাফলের ক্ষেত্রে সরকার একটি অংশ মেনে নিয়েছে, অন্যটি মেনে নেয়নি। এ কারণে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার আবার মানুষের টাকা খরচ করে গণভোটের আয়োজন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বগুড়ার আলুর বাজার ও উৎপাদন খরচ নিয়ে তাঁর আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। হাসনাত বলেন, বগুড়া আলুর রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার কৃষকদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৫ টাকার আলু ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন সরকারের উচিত সেই সংস্কারগুলো মেনে নেওয়া এবং কৃষকেরা যেন আলুর যথাযথ মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বা গণভোটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি যেভাবে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের মতো করে একদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার চেষ্টা করেছিল, ঠিক সেই আদলে নতুন কোনো প্রতারণামূলক কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা চলছে।’

এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় কার্ড ব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ‘জনগণ যে বিষয়ে রায় দিয়েছে, আগে সেটি বাস্তবায়ন করুন। এরপরে অন্য কিছু করলে তবেই আমরা বিশ্বাস করব যে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বা রায় আগে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম কাজটি সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় ধাপে হাত দিলে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com