৭ অক্টোবর ২০২৬
preview
বন্ধুত্ব চাইলে বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

মো. নূর নবী শেখ

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, শুধু গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। শহিদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা প্রত্যাশিত নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন অনেক নদী রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ গত ৫০ বছরেও পায়নি বলে দাবি করেন তিনি। ফারাক্কা ব্যারাজের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণের একটি হাতিয়ার হিসেবে এই ব্যারাজ ব্যবহৃত হচ্ছে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবরার ফাহাদ যে জাতীয় স্বার্থের কথা বলেছিলেন, তা বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় এবং বাংলাদেশকে প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায় বলে যে বক্তব্য দিয়ে আসছে, তার প্রমাণ দিতে হবে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। শুধু পুরোনো চুক্তি নবায়ন করলেই হবে না, বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

শহিদ আবরার ফাহাদকে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পক্ষে আবরার লেখালেখি করেছিলেন। ‘আমরা যে দাস নই, এটা আবরার ফাহাদ দেখিয়েছিলেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ভারতের ‘এক্সটেনশন’ হিসেবে কাজ করেছে এবং ভারতের কারণে ক্ষমতায় ছিল—আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তার দাবি, আবরার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি; তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন এবং এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com