মো. নূর নবী শেখ
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের কৃতী হাফেজ ইহতিশামুল হক হীরা। তার এ আন্তর্জাতিক সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন হাফেজ ইহতিশামুল হক হীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার এ সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কুরআন শিক্ষার মর্যাদাকে তুলে ধরেছে।
সোমবার দেশে প্রত্যাবর্তনের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান এবং যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় হাফেজ হীরার উস্তাদ ও মারকাজু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামিয়ার মুহতামিম মুফতি মুরতাজা ফয়েজী মাসুম এবং বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সালেহ আহমদও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাফেজ ইহতিশামুল হক হীরাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নির্দেশনায় হাফেজ হীরার দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিমানবন্দরে সংবর্ধনার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কুয়ালালামপুরে ৬ থেকে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন হাফেজ ইহতিশামুল হক হীরার অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও কুরআন শিক্ষায় সাধনার স্বীকৃতি। তার এ অর্জন কুরআনের হিফজ ও তিলাওয়াতচর্চায় নিয়োজিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা, শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা এবং কুরআনের শিক্ষা জীবনে ধারণ করার ক্ষেত্রে হাফেজদের দীর্ঘ সাধনা ও অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন বাংলাদেশি হাফেজের এ সাফল্য দেশের কুরআন শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
হাফেজ হীরার এ অর্জনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি কুরআন শিক্ষায় তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মেধাবী হাফেজদের উৎসাহিত করতেও এ ধরনের অর্জন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া, তাকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে সমবেত হন শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-উলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com