২২ অক্টোবর ২০২৬
preview
ডিভি-২০২৭ চালুতে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের সুযোগ অনিশ্চিত

মো. নূর নবী শেখ

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি-২০২৭-এর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময়সূচি নির্ধারণ ও আবেদন গ্রহণের বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। গত ১৪ অক্টোবর দেওয়া এ আদেশের ফলে কর্মসূচিটির নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আদেশটি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয় জানায়, নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।

তবে আদালতের আদেশে নিবন্ধন নিয়ে কী কী বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছাড়া কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালু হবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।

ডিভি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

কর্মসূচিটির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সংখ্যার মধ্যে নির্বাচিত মূল আবেদনকারীদের পাশাপাশি তাঁদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।

লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর সাধারণত অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও যোগ্যতা অর্জন করা যায়। এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য সাধারণত মার্কিন নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ এখনো অনিশ্চিত


ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন নিয়ে আদালতের নির্দেশ থাকলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। ডিভি কর্মসূচিতে কোনো দেশের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যান ও নির্দিষ্ট নিয়ম বিবেচনা করা হয়। ফলে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশকে বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ ফিরে পাওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে ওই দেশের নাগরিকেরা ডিভি কর্মসূচির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হন। তবে কোন দেশ কোন বছরের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে, তা সংশ্লিষ্ট বছরের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা ও যোগ্য দেশের তালিকা থেকে নিশ্চিত হতে হয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিভি কর্মসূচির অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ডিভি-২০২৭-এ বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বছরের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা প্রয়োজন।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com