মো. নূর নবী শেখ
ত্রিদেশীয় সিরিজে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালো শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে ৮ রান দরকার ছিলো জেতার জন্য। সেখানে প্রথম বলে এক রান নেন লিয়ানেজ। পরের দুই বলে ভেল্লালাগে ও ইশান মালিঙ্গাকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন জশ টাঙ। হ্যাটট্রিক বলে আসিথা ফার্নান্দো থার্ড ম্যানে বল পাঠিয়ে নেন এক রান। দুই বলে তখন দরকার ৬ রান।
একটুও বিচলিত না হয়ে জশ টাঙকে সীমানা ছাড়া করেন লিয়ানেজ। আর তাতে হ্যারি ব্রুকের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডকে ম্লান করে দিয়ে ৪৩০ রানের লক্ষ্য ২ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে ৪৩০ রানের লক্ষ্য ২ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। চারশো ছাড়ানো লক্ষ্য দিয়ে ইংল্যান্ডও সম্ভবত ভাবেনি এই ম্যাচ তারা হারতে চলেছে। কিন্তু সেটাই বাস্তব হয়েছে পাভান রত্মানায়েকের সেঞ্চুরি, আভিস্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকার ৯৭ রানের ইনিংস এবং শেষদিকে জানিথ লিয়ানেজের মারকুটে ফিনিশিংয়ে।পাহাড়সম এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪ রানেই দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কোনো বল না খেলেই হন রান আউট। কামিন্দকে বোল্ড করেন জশ টাঙ।এরপর চাপ সামাল দেন আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাভান রত্মায়েক ১৬৬ রানের জুটি গড়ে। তবে সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকতেই ওভারটনের বলে তাকেই ক্যাচ দিয়ে দলীয় ১৯০ রানে আউট হন আভিস্কা। পতন হয় তৃতীয় উইকেটের।তবে সেখান থেকে ছন্দপতন হয়নি শ্রীলঙ্কার।
আরও ১৩৩ রানের জুটি হয় পাভান ও দাসুন শানাকার। এই জুটিতে শতক আদায় করে নেন পাভান রত্মায়েক। ১৩০ রান করে স্যাম কারানের বলে তিনি আউট হলে ভাঙে জুটি। ৩২৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।৯৭ রান করা দাসুন শানাকাও সেঞ্চুরি মিস করেন আভিস্কার মতো। ৩৬৩ রানে তিনি আউট হলে পঞ্চম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এরপর সেখান থেকে জানিথ লিয়ানেজকে সঙ্গ দিয়ে দলের স্কোর চারশো পার করিয়ে আউট হন সাহান আরচ্চিগে ১৩ রানে।
৪০৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় তারা।সেখান থেকে শেষ ওভারের সমীকরণ ৬ বলে ৮ রান দাঁড়ালে মাঝের তিন বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের দিকে ম্যাচ চলে গেলেও, শেষ পর্যন্ত আর সেটি হয়নি লিয়ানেজের দৃঢ়তায়। জশ টাঙকে সীমানা ছাড়া করে ২৭ বলে ৬১ রান করা লিয়ানেজ শ্রীলঙ্কাকে অবিশ্বাস্য এই জয় এনে দেন।ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট পেয়েছে জশ টাঙ। দুটি স্যাম কারান।
একটি করে ওভারটন ও ডসন।এর আগে, ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কান বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান হ্যারি ব্রুক। তার ২০২ রানে ইংল্যান্ডের বোর্ডে জমা হয়ে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান।রাওয়ালপিন্ডিতে চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান ব্রুক। ইনিংসটি সাজান তিনি ২১ চার ও ১০ ছক্কায়। বেধড়ক পিটিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বোলারদের।
তার সামনে পাত্তা পায়নি প্রতিপক্ষের কোনো বোলারই। ১১তম ব্যাটার হিসেবে ও ওয়ানডেতে ১৪তম ডাবল সেঞ্চুরিটি করেছেন ব্রুক।টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ইনিংসে তালগোল পাকিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট। সেই জুটি ভাঙেন ভেল্লালাগে। ৫০ রান করে লিয়ানেজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।অন্য ওপেনার বেন ডাকেটকেও ফেরান ভেল্লালাগেই।
তার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। ২৯ রান আউট ডাকেট আউট হলে ৮৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ইংলিশরা।এরপর হ্যারি ব্রুককে নিয়ে বড় জুটি গড়েন জো রুট। ১৫৯ রানের জুটিতে অর্ধশতকের দেখা পান দুই ব্যাটারই। রুট অনেকটা রয়েসয়ে খেললেও মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকেন ব্রুক। ৬৬ বলে ৬৯ রান করে রুট আউট হন দলীয় ২৪৪ রানে আসিথা ফার্নান্দোর বলে। তৃতীয় উইকেটের পতন হয় তাতে।রুটের বিদায়ের পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন ব্রুক। ৭৫ বলে ১০০ রানের দেখা পাওয়ার পর ৯৭ বলে করেন ১৫০।
সেখান থেকে ২০০ রান করেন ১১৪ বলে। ২১ চার ও ১০ ছক্কায় দিশেহারা করে দেন শ্রীলঙ্কার বোলারদের।এই সময়টায় তথা শেষদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৩০ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ব্রুক ২০২ রান করে।তবে ততক্ষণে পেরিয়ে যায় দলীয় সংগ্রহ ৪০০ রানের সীমানা। ৪২৯ রান করে ইংল্যান্ড পুরো ৫০ ওভার খেলে। শ্রীলঙ্কার সামনে ৪৩০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য।শ্রীলঙ্কার হয়ে ভেল্লালাগে দুটি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন আসিথা ফার্নান্দো ও জানিথ লিয়ানেজ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com