১ নভেম্বর ২০২৬
preview
শ্রমিকদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ নেতার স্লোগান

মো. নূর নবী শেখ

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তার নাম সাজবুল ইসলাম। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার ফেসবুকেও একই পরিচয় পাওয়া গেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল নিজের ফেসবুকে থেকে বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন সাজবুল ইসলাম।

এরমধ্যে একটি ভিডিওর ক্যাপশনে সাজবুল লিখেছেন, শ্রমিকদের অধিকার মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট ভুক্ত করুন।

এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। চারদিকে যে হারে দ্রব্যের বাজার বাড়তেছে। আমি একজন শ্রমিক হয়ে এ কষ্ট বুঝি। পরিবার চালাতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। ৩০০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন -২০২৬

অপর এক পোস্টে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ৩০০০০ টাকা বেতন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার। আমি নিজেও একজন শ্রমিক।

শ্রমিকদের কষ্ট আমি বুঝি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। যাতে দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করে।

এদিকে, রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা পোশাক শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে মোতায়েন করে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক পরিষ্কারের সময় পুলিশ মূলত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিয়েছিল। কারও মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মিরপুরের সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

এর আগে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com