home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার, পরীমনি মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন: সাংবাদিক রবিউল

মো. নূর নবী শেখ
ডেস্ক রিপোর্টকলম২৪.কম

আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৫১

Facebook
Twitter

স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার, পরীমনি মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন: সাংবাদিক রবিউল

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে স্পর্শ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন। বরং তিনি পরীমনির বিরুদ্ধে মুঠোফোনে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

রবিউল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, পরীমনি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। সবকিছুই ভিডিওতে দেখা গেছে।

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে গত বৃহস্পতিবার চিত্রনায়িকা পরীমনি সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের বিরুদ্ধে তাঁকে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন। পরে সাংবাদিকদের সামনে রবিউলকে গালিগালাজ করেন।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে যান পরীমনি।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেন।
ওই ঘটনায় নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আগেই সাভার থানায় মামলা করেছিলেন পরীমনি। এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। নাসির উদ্দিন জামিনে রয়েছেন।

পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর
নাসির উদ্দিনের মামলায় পরীমনির আদালতে আসার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে উপস্থিত হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

পরীমনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। রবিউল বলেন, পরীমনিই তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন। তাঁর ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপড পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। পরে পরীমনির হাত থেকে ফোনটি নিয়ে নেন তিনি।

লিফটে কী ঘটেছিল, দুই পক্ষের বক্তব্য

লিফটে ওঠার সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দেন পরীমনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখন লিফটে উঠছি, একজন আমারে উঠতে দেবে না। কোর্টের একটা টাইম আছে, সময়মতো আমাকে পৌঁছাতে হবে তো। মোবাইলটা আমার মাথার পাশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছে, একটা স্ট্যান্ডও ছিল। মোবাইলের জন্য লিফট কোনোভাবে বন্ধ হচ্ছিল না। আমি হাত দিয়ে মোবাইল সরিয়ে দিয়েছি। সরানোর পর মনে হলো, কেউ একজন আমার হাতটা ধরেছে।’

আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হয়ে তাঁর গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় পরীমনি মেজাজ হারান
আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হয়ে তাঁর গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় পরীমনি মেজাজ হারানকোলাজ
পরীমনি বলেন, ‘যে দুজন আমাকে ধরছে, তাদের স্পর্শ তো আমি জানি। এ রকম ব্যথা দেওয়া টাইপ ধরা, খামচি মারা কী রকম করে ধরা যেন, আমি ব্যথা পাইছি। এ–ও মনে হয়েছিল, রাতুল (সঙ্গে থাকা একজন) আমাকে এভাবে ধরল কেন? তাকায়ে দেখি, ওই ছেলে (সাংবাদিক রবিউল হোসাইন)।’

পরীমনি আরও বলেন, ‘আমি চেহারাটা মনে রাখছি। জামিনের পর পুরো আদালতে যতক্ষণ হাঁটছি, ওরে আমি খুঁজছি। কাঠগড়ায় জামিন নিয়ে এসে নিচে নেমে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি তারে, এরপর বললাম, এদিকে আয়। তুই তোকারি করে ডাক দিয়েছি। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন জিজ্ঞেস করতেই তখন দেখি সে বলছে, “আপা আমার ট্রাইপড ভেঙে দিয়েছে”। তখন আমার মনে হয়েছে, মাটির মধ্যে পুঁতে ফেলি। হাত উঠতে উঠতেও কেন জানি ওঠেনি।’

পরীমনির অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল হোসাইন বলেন, তিনি লিফটে ওঠেননি। লিফটে ওঠার সময়ে এক কোনায় দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাঁর মুঠোফোন ও ট্রাইপডের কারণে লিফট বন্ধ হচ্ছিল না, এ ধরনের কথা মোটেও সত্য নয়।

রবিউল আরও বলেন, ‘এখন আগে থেকে লিফটে থাকা কোনো ক্যামেরা পারসন কিংবা আইনজীবী, তাঁদের কারও কারণে লিফট বন্ধ হচ্ছিল না কি না, এটা আমার জানা নেই। পরীমনি লিফটে ঢোকার পথে আমার ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে নেন। লিফটে ওঠার সময় আমি উনার পথ আটকাব কেন, উনার চলার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা আমি কখনো তৈরি করিনি।’

পরীমনির গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগের জবাবে রবিউল বলেন, ‘উনি বলছেন স্পর্শ করার কথা, কিন্তু আমার বাঁ হাতে মোবাইল ও ট্রাইপড ছিল। আমার ডান হাত পুরোপুরি রিজার্ভ (রবিউল হোসাইনের ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট, হাতের তিনটি আঙুল নেই, এই হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম তিনি করতে পারেন না), এই হাত দিয়ে তো স্পর্শ করার কোনো ধরনের সুযোগ নাই—এটা আমাকে সামনাসামনি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাই জানেন।’

রবিউল বলেন, ‘কে বা কারা তাঁকে (পরীমনি) স্পর্শ করেছে, এটা আমি বলতে পারছি না। ওই লিফটে উনার সঙ্গে তাঁরই নিরাপত্তারক্ষীরা ছিল।’

আদালত থেকে বের হয়েও উত্তেজনা

আদালতে শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান পরীমনি। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে এগিয়ে যান পরীমনি, তাঁকে ডাকেন এবং তাঁর উদ্দেশে গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে রবিউল প্রথম আলোকে জানালেন, পরীমনির সঙ্গে থাকা একজন (খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর নাম তুরান মুনশি) প্রথমে তাঁর কাছে লিফটে গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এরপর পরীমনি নিজেই তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন।

রবিউল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি (পরীমনি) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছিলেন। যাওয়ার সময় আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যান। আমার সঙ্গে আসলে তখন কী কী করা হয়েছে, তা ভিডিওতে সব আছে, সবাই তা দেখেছেন।’

ধাক্কাধাক্কিতে আহত বিচারপ্রার্থী, সাংবাদিকও

আদালত প্রাঙ্গণে ওই দিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় শুধু সাংবাদিকেরাই আহত হননি, আহত হয়েছেন একজন বিচারপ্রার্থীও। সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের ওই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ, পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার এবং আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম। গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)।

প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটি আরও লিখেছে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরীমনি আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ডিআরএফ মনে করে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু তাঁদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। অবিলম্বে পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।