Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


তারেক রহমান কিংবদন্তি হতে পারেন যদি..

প্রতিবেদক: কলম২৪ প্রতিবেদক

আপডেট: কিছুক্ষণ আগে

Facebook
Twitter

Article Image

অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের সংসদ নির্বাচনের বিশেষত্ব হলো এই যে, দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তা যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রশংসার দাবি রাখে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় মোট তিন জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে মর্মে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তথ্য প্রকাশ করেছে যা দুঃখজনক। যদিও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলে এ পরিস্থিতিতে তা যথেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করতো বলে সচেতন মহল মনে করে। আরেক বিশেষত্ব হলো- এবারের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছিল। প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ২০৯ টি ও জামায়াতে ইসলামী ৬৮ টি আসন লাভ করেছে। ইসির তথ্যমতে এবারের সংসদ নির্বাচনে সংগৃহীত ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং গণভোটে ৬০.৮৪ শতাংশ। সংগৃহীত সংসদীয় ভোটের ৪৯.৯ শতাংশ পেয়েছে বিএনপি আর ৩১.৭৬ শতাংশ পেয়েছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। তবে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) পর্যবেক্ষকদের মতে শুধু ভোটের হারে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বোঝায় না; তাদের মতে, সমাজের সব প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কিনা এবং কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কিনা তার ওপরই অংগ্রহনমূলক বোঝায়। 


তারা আরো মনে করেন, অংশগ্রহণমূলক মানে- সব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি যারা নিজেদের স্বার্থ প্রকাশ করতে চায় । এবারের নির্বাচনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রবাসীয় নির্বাসন(রাজনৈতিক) শেষে তারেক রহমানের বিরোচিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নির্বাচনে সরবে অংশগ্রহণ। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিতরে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এই চাঞ্চল্য নির্বাচনী ঢেউ কে উদ্বেলিত করে বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করে তোলে এবং ফলে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়। এমতাবস্থায় জনমনে গত দেড় বছরে পুঞ্জিভুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক  হতাশা, অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের ঘনকালোমেঘ ক্রমশ দূর হতে শুরু করেছে। স্থিতিশীল আবহে আবর্তিত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। অভ্যুত্থান পূর্বাপর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে গভীরক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা আলোকপাত ও নিরসনের দাবি রাখে। আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই বিষয়গুলো নবনির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার কর্তৃক অনুধাবনপূর্বক যত দ্রুত সম্ভব নিরসন করা জরুরী বলে সচেতন মহল মনে করে।


প্রসঙ্গত জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশ এক নজিরবিহীন অরাজকতা ও চরম অনিশ্চয়তার ভিতর দিয়ে চলছিল। এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি জাতিকে যে কতকাল ভোগাবে তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল! গভীর দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একশ্রেণীর তথাকথিত সুশীলবরা কথিত আওয়ামী স্বৈরশাসন অবসানের এই অনিবার্য 'অভ্যুত্থান' কে 'বিপ্লব' ট্যাগ দিয়ে সৃষ্ট তাবৎ অরাজকতাকে বিপ্লবোত্তর স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে আখ্যায়িত ও প্রত্যায়িত করে এর ব্যাপকতাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে এবং উস্কে দেয়। পরিলক্ষ্যনীয় , সৃষ্ট তাবৎ অরাজকতা 'মব' রূপে তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন প্রায় সকল সেক্টরকে আশঙ্কিত ও আতঙ্কিত করে তছনছ করে ফেলেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসে সংঘটিত এ হেন 'মব' একটি চরম অমানবিক ও পৈশাচিক অধ্যায় হিসাবে ঘৃণিত হয়ে থাকবে। ইতোপূর্বে এই 'মব' কে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমর্থিত ও উৎসাহিত হতেও আমরা দেখেছি যা ছিল গভীর হতাশার! মবসংঘটকদের তারা রাষ্ট্রীয় 'প্রেসার গ্রুপ' হিসাবে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিয়ে চরমস্পর্ধিত করেছিল। ফলশ্রুতিতে, তখন স্পষ্টতই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় 'মব' দেশব্যাপী যথেষ্ঠ ভয়ার্ত হয়ে উঠেছিল। গেল দেড় বছরে মবের হিংস্রতায় বহু মা তার সন্তানকে হারিয়েছে;  সন্তান হারিয়েছে তার পিতাকে। অনেকেই হারিয়েছে তার জীবিকা। বেসরকারি সংস্থা 'আসক' এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অন্তর্বর্তী আমলে মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ২৯৩ জন নিহত হয়েছেন। এভাবে মব আইনের শাসনকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। তবে আজও মবের মূলৎপাটন করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং, মব যেন আরো গ্রথিত হয়ে স্থায়িত্ব পেয়ে সংস্কৃতি রূপে প্রতিষ্ঠা না পায় সেজন্য জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় এনে মব নির্মূল করে আইনের শাসন যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে আনতে হবে।


পেশাজীবী গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিলেন শিক্ষকগণ যা ছিল বিস্ময়করভাবে নজিরবিহীন। এমনকি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতেও এর নুন্যতমও দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা 'ডয়েচে ভেলে' শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে গতবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল; এতে বলা হয়েছে,  অভ্যুত্থান পরবর্তী সারাদেশে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ২০০০ শিক্ষক কে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই দুইশতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে কলেজ, স্কুল এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এই 'মব' থেকে রেহাই পাননি। মারধর এবং মামলা থেকেও তারা রোহাই পাননি। তারা বেতনও পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে,  ৮০০ জন শিক্ষক আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। প্রথম দিকে ছাত্রদের দ্বারা এটা সংঘটিত হলেও পরে এর সঙ্গে নানান রাজনৈতিক ও স্বার্থান্বেষীমহলও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়।' 


লক্ষ্যনীয়, অনেকে মবের ভয়ে আজো প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। মবের কোপানলে অকালে চাকুরী হারিয়ে একাধিক শিক্ষকের করুণ মত্যুও ঘটেছে যা হৃদয় বিদারক বটে! উল্লেখ্য,  বর্তমানে, পরিবার পরিজন নিয়ে এ সকল শিক্ষকরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন মর্মে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এ সকল নিপীড়িত অসহায় শিক্ষকদের পূর্বের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া নির্বাচিত এই গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। এতে শিক্ষায় স্থিতিশীল আবহ তৈরি হবে যা শিক্ষার অগ্রসরতার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি। 


ধ্বংস হয়েছে অর্থনীতির মেরুদন্ড শিল্প-কলকারখানাগুলো। এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ ও গাজী গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। শুধু আওয়ামীপন্থী হওয়ার কারণে এ সকল গ্রুপগুলোকে ধ্বংসাত্মক মবের শিকার হতে হয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) তথ্যমতে , জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই লাখ গার্মেন্ট শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার জন নতুন কাজে যোগ দিতে পেরেছেন, কারণ এখনো অনেক কারখানা খোলা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অন্যান্য শিল্প কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কারখানা গুলো অনুৎপাদনশীল অবস্থায় পড়ে আছে যা দেশের অর্থনীতির চাকা মন্থর করে দিয়েছে। গেল দেড় বছরে দেশে কোন বিনিয়োগ হয়নি বলা চলে; তার ওপর আবার অভ্যন্তরীণ শিল্পগুলোর এমন দুরবস্থা ও উপসাগরীয় সংকটে বৈশ্বিক বাণিজ্যের চলমান মন্দাবস্থা দেশের অর্থনীতিকে যথেষ্ট হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, অর্থনীতি রাষ্ট্রের জন্য একটি সর্বজনীন অতীব গুরুত্বপূর্ণ নীতি। অর্থনীতিকে প্রতিপক্ষীয় রাজনীতির বিবেচনায় তুলনা করলে তার অগ্রসরতা বাধাগ্রস্ত হয় এমনকি মুখ থুবড়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সেক্টরকে দলমতের ঊর্ধ্বে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। সুতরাং, বিরাজমান বাস্তবতায় অর্থনীতির এমন ভগ্নদশা উত্তরনে  সরকারকে প্রতিপক্ষীয় রাজনৈতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে উদারনৈতিক হতে হবে। এ লক্ষ্যে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি শিল্পকারখানা যত দ্রুত সম্ভব উৎপাদনক্ষম করে অর্থনীতির চাকা গতিশীল করতে সরকারের বাস্তব সম্মত  পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি।


অন্তর্বর্তী শাসনাধীনে চরম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল রাষ্ট্রের অতীব গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ গণমাধ্যম। সেখানে নজিরবিহীন ভাবে মুক্ততথ্যের ও মুক্তমতের চর্চা প্রায় শূন্যই ছিল। সমালোচনা, প্রগতিশীল ও সুকুমারবৃত্তিচর্চা মবের ভয়ে এক প্রকার স্তব্ধই ছিল। তখন 'ফ্যাসিস্ট' এর দোসর হিসেবে ঢালাও তকমা জুড়িয়ে বহু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে ভিত্তিহীন মামলায় নির্বিচারে আটক করার মাধ্যমে ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে গণমাধ্যমকে 'সেলফসেন্সরশিপ' এ বাধ্য করানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বনামধন্য দুইগণমাধ্যম- ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে মব সৃষ্টি করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ছারখার করা হয়। এর দ্বারা মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নগ্ন ভাবে ধ্বংস করা হয়। বলাবাহুল্য, একটি উন্নততর ও  প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনগণমাধ্যম একটি অপরিহার্য বিষয়। সুতরাং, সৃষ্ট সংকট থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি দুর্বল করার নষ্ট মানসে সংস্কৃতি চর্চা ও সাংস্কৃতিক স্থাপনার ওপর একের পর এক আঘাত হানা হয়। এক্ষেত্রে উদিচী ও ছায়ানটের ওপর সংঘটিত ভয়ানক অগ্নিতান্ডব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি , ধর্মীয়উগ্রবাদীগোষ্ঠী কর্তৃক শতাধিক মাজারে নজিরবিহীন ঘৃণ্য হামলা চালানো হয় যাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।  এমতাবস্থায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে আইনের শাসন অতিষ্ঠ করা এবং একই সাথে ধর্ম ও সংস্কৃতির সৃজনী ধারা অব্যাহত রেখে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।


অন্তর্বর্তী সরকার বিকৃতি সাধনের মাধ্যমে আঘাত হানে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট মৌলিক ইতিহাস ঐতিহ্যে। তখন সরকারের ছত্রছায়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কতিপয় গোষ্ঠী কর্তৃক দেশের নাম, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতে পরিবর্তনেরও  অপচেষ্টা চালানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রসংস্কারের নামে পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে সংবিধানের মৌলিক ইস্যুগুলোতে যা রাষ্ট্রের জন্মসূত্র ও জাতির মৌলিক সত্তা বিপন্নের শামিল । এতে করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাজনীতির ধারা পরিবর্তনেরও চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ হেন বিষয়াদি রোধপূর্বক রাস্ট্রে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরী বলে সচেতন মহল মনে করে।


নিরাপরাধ হওয়া সত্তেও শুধু আওয়ামী সমর্থক হওয়ার কারণে অসংখ্য ছাত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রত্ব বাতিল করে তাদের শিক্ষা জীবন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এতে সামস্টিক মেধার ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আমাদের মনে রাখা দরকার, তরুণদের কে সব সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় ভাবলে মেধাভিত্তিক উৎপাদনশীল তারুণ্যের সমাজ বিনির্মাণে রাষ্ট্র নিদারুণ ভাবে হোঁচট খেতে পারে। আমাদের এও মনে রাখা উচিৎ, শিক্ষিত তারুণ্য রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই বর্ণিত বাস্তবতা অনুধাবন করে জাতীয় স্বার্থেই নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।


প্রসঙ্গত, 'বিপ্লব' একটি মহতি চেতনা। বিপ্লব কখনো রাষ্ট্রের মৌলিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে আঘাত করে না বরং সেগুলোর ভিত্তি সমুন্নত ও উজ্জীবিত রেখেই   সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে রাষ্ট্র ও জনগণকে সভ্যতর করে তোলে। কিন্তু বিপ্লবের নামে সম্পূর্ণ তার বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পেলাম। বৈষম্যবিরোধী সাধারণ ছাত্র জনতার অকৃত্রিম ও ঐতিহাসিক আত্মত্যাগে অর্জিত জুলাই কৃতিত্বের স্পিরিট কে পুঁজি করে একশ্রেণীর ছাত্র ও অছাত্র গোষ্ঠী নিজেদেরকে বিচিত্র দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রেখেছে। সৃষ্টি করেছে 'মব' এর মতো ঘৃণ্য কালচার। ধ্বংস করেছে তারুণ্যের সৃজনশীল চেতনা। বিধ্বস্ত করেছে ছাত্রত্বের অধ্যয়নব্রত। বিনষ্ট করেছে ছাত্রসমাজের সৃষ্টিশীল প্রতিভা। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী জুলাই স্পিরিটকে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী বিশেষ গোষ্ঠী তাদের গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থে অপব্যবহার করছে। জুলাই এর আদর্শ বিরোধী এ সকল বিচিত্র দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক আইনী শাস্তির আওতায় এনে রাজনৈতিক ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে জুলাই এর আদর্শিক চেতনা কে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত বলে মনে করি।


(বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের নীতি ধারন করে। সেই সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তুলে নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুকরণে এক অনুপম দৃষ্টান্ত বিএনপি সরকার স্থাপন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগকে জনগণের মাঝে জবাবদিহিতার আওতায় এনে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এ সরকার স্থাপন করতে পারে। এ প্রেক্ষিতে বিএনপি জনগনের কাছে সমাদৃত হয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক পুঁজি অর্জন করতে পারে। এতে করে দেশে যেমন গণতন্ত্রের আবহ তৈরি হবে তেমনি উৎকর্ষিত হবে জাতীয় রাজনীতি যার বেনিফিসিয়ারি হবে সাধারণ জনগণ।


সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যার পাশাপাশি বহু পুলিশকেও হত্যা করা হয়েছে। থানায় অগ্নিসংযোগ সহ শতশত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করা হয়েছে। অভ্যুত্থানে স্নাইপার রাইফেল ও ৭.৬২ বুলেটের মতো ভয়ংকর মারণাস্ত্র ব্যবহারের রহস্য আজো উদ্ঘাটিত হয়নি। এতে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি হত্যার ও মারনাস্ত্র অপব্যবহারের পুংখানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে যথার্থ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করলে একদিকে যেমন আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের কৃতিত্ব অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলার বিশাল বাহিনী তাদের মনোবল ফিরে পাবে যা রাস্ট্র সুপরিচালনার জন্য অত্যন্ত জরুরী; প্রতিষ্ঠিত হবে জুলাই অভ্যুত্থানের স্বচ্ছতা যা অভ্যুত্থানকে ঐতিহাসিক ভাবে অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণীয় করে তুলতে পারে। এছাড়াও, জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শিক স্পিরিটকে অপব্যবহার করে প্রতিহিংসার স্বার্থ চরিতার্থে যে সকল নিরপরাধ মানুষকে গায়েবি মামলায় নির্বিচারে কারাবন্দি করা হয়েছে তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তিদিয়ে আইন ও বিচার বিভাগকে কালিমা মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।


পরিশেষে- বলাবাহুল্য, সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি পরিপুষ্ট হয় ; জননন্দিত হয় সরকার ও রাজনীতি। বর্ণিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও তার সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি রাজনৈতিক পুঁজি অর্জনের দারুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অনন্য সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও তার সরকার জাতীয় রাজনীতির পরিমণ্ডলে এক অনুপম ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এতে তারেক রহমান হয়ে উঠতে পারেন পরিশিলীত রাজনীতির এক আইকন ও আইডল।


কাজী মাসুদুর রহমান

কলামিস্ট



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।