Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


কুষ্টিয়ায় নির্মম হত্যাকাণ্ড: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নাগরিক নিরাপত্তা

প্রতিবেদক: ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট: ২০ ঘণ্টা আগে

Facebook
Twitter

Article Image

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জেনেছি যে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর আবদুর রহমান (শামীম)-কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করেছে। একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে এ ধরনের নৃশংস উন্মত্ততা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি শুধু একটি মর্মান্তিক প্রাণহানিই নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য এক মারাত্মক অশনিসংকেত।


খবর অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়। এ প্রসঙ্গে একটি কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা প্রয়োজন—কেউ যদি কোনো অপরাধ করেন বা কারও কথায় যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তবে তার আইনি প্রতিকারের জন্য রাষ্ট্রে সুনির্দিষ্ট বিচারব্যবস্থা রয়েছে। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একদল মানুষের এভাবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া এবং একজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা চরম অরাজকতার লক্ষণ। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সমাজকাঠামোর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা। কিন্তু এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও জঘন্য 'মব জাস্টিস' (উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার) আমাদের লালিত অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের বিকাশে একটি বড় বাধা। এটি সমাজে শুধু ভয় ও আস্থার সংকটই তৈরি করে না, বরং রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।


যেকোনো অরাজক পরিস্থিতির পর সাধারণ মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকে রাষ্ট্রের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে উঠে এসেছে যে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের উপস্থিতি ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করে তোলে। রাষ্ট্রের পবিত্রতম দায়িত্ব হলো যেকোনো মূল্যে তার নাগরিকদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের জন্য এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এখন একটি বড় পরীক্ষা। জনমনে এই প্রশ্ন ওঠা একেবারেই অস্বাভাবিক নয় যে, প্রশাসন কি সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি অপরাধীরা কোনো অদৃশ্য মদদ বা সংঘবদ্ধ পেশিশক্তির জোরে পার পেয়ে যাবে? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অপরাধীর একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত ‘অপরাধী’; এখানে অন্য কোনো পরিচয় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।


আমরা আশাবাদী হতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করবে এবং আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনবে। ন্যায়বিচার কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না, সাধারণ মানুষের কাছে তা দৃশ্যমান হতে হয়। অপরাধীরা যত সংঘবদ্ধ বা শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের হাত যে তার চেয়েও লম্বা—এই বার্তাটি সমাজে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এর মাধ্যমেই কেবল জনমনে স্বস্তি ফিরবে এবং একটি নিরাপদ, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।