_copy7.webp)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিনের পর আনাসসহ আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাটি তদন্তে মাঠে কাজ করছে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, অপ্রতিমকে হত্যার পেছনে শুধু আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত—তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।
শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতিমের মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, বাঁশ কাটতে গিয়ে তারা জঙ্গলের ভেতরে মরদেহটি দেখতে পান। প্রথমে দূর থেকে কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছেন বলে মনে হয়। পরে কাছে গিয়ে মাথায় জখমের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর মামুন নামে একজনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে দ্রুত পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশজুড়ে নিয়ে আরও পড়ুন





সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।