home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


ইউনিয়ন পরিষদ ভোট নিয়ে ইসিকে সরকারের বার্তা

মো. নূর নবী শেখ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাকলম২৪.কম

আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭

Facebook
Twitter

ইউনিয়ন পরিষদ ভোট নিয়ে ইসিকে সরকারের বার্তা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেও ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন।

এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা, রমজান ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে আরও কিছু কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

এদিকে সরকারের তরফ থেকে ইসিকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চলতি বছর ইউপি নির্বাচন করার মতো প্রস্তুতি নেই। ভোট করার জন্য প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা জানাতেও এক মাস সময় লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয় বেলা আড়াইটার পর। সভা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সভায় সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

সভা শেষে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের জন্য আগে সময় বের করতে হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় মাঝে সময় কম। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি শুরুর আগেও কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে সভায় সম্মত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় আমি যদি এক লাইনে কনক্লুশন বলি, সবাই সম্মত হয়েছেন যে আমাদের এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে।’

ইসি গত রবি ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ জানায়। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তারিখগুলো ছিল—প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে।

তবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হবে।

সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। সভায় সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিক্ষাসচিব, আইজিপিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে সচিবরা ভোট আয়োজন নিয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তারা বলেন, এ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষ করতে ডিসেম্বর নাগাদ সময় লাগবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গত বুধবার থেকে সারা দেশে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সচিবদের কাছে ভোট করার সুবিধামতো সময় কখন হতে পারে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নভেম্বর বা ডিসেম্বরে ভোট করার মতো প্রস্তুতি তাদের নাই। ভোট করার জন্য প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে তা জানাতে এক মাস সময় লাগতে পারে।

শিক্ষাসচিব জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার প্রভাব এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ভোট গ্রহণে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা রয়েছে। এস নিয়ে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হলে পরীক্ষায় ব্যাঘাত হতে পারে। তাই নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট করা সম্ভব নয়।

সূত্র আরও জানায়, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ইসি সব সময় বলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু করবে। তাই সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিলে ভালো হতো।

তখন সিইসি বলেন, এটা একেবারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনের জন্য অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জনপ্রশাসন সচিব সভায় জানান, অর্থসচিব বৈঠকে আসেননি। তাহলে সবকিছু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে?

জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত দুজন নির্বাচন কমিশনার চলতি বছরের ইউপি নির্বাচন শুরু করার বিষয়ে মত দেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এবার সম্ভাব্য সময়ের মধ্যকার ব্যবধান খুব সংক্ষিপ্ত। এত সংক্ষিপ্ত মধ্যে কীভাবে আমরা সব ব্যবস্থা করব, এটা নিয়েই আরও একটু কাজ করার দরকার আছে।’

তবে ইউপি নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে ইসি সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘মোটেও না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তিনটা শব্দ বলেছিলাম, এটা একটা সম্ভাব্য শিডিউল। এবং বলেছিলাম, এটা প্রাক্‌-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে প্রস্তুত করা। আমরা বলেছিলাম যে ১৭ তারিখের বৈঠকের পর এটা চূড়ান্ত করা হবে।’

এ বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনাটা ছিল, সে পরিকল্পনার ওপরে তারা সবাই মতামত দিয়েছেন। আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসব।’

স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন, তখন সেটা করব।’

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সেখানে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী থাকবে।’

সূত্র: আজকের পত্রিকা



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।