Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


বাংলার লোকগানে আলোর প্রদীপ আব্দুল কাইয়ুম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাUnknown location

আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৪

Facebook
Twitter

Article Image

সংগীত মহাবিশ্বকে আত্মা, মনকে ডানা, কল্পনাকে উড়ান এবং জীবন ও সবকিছুকে আনন্দ দান করে। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সের প্রভাবশালী দার্শনিক প্লেটোর ঐতিহাসিক উক্তির মতোই গানের প্রতি প্রবল আকর্ষণ আর ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে আগলে রেখেছেন কিছু মানুষ। তেমনই একজন গানপ্রেমী মানুষ কিশোরগঞ্জের আব্দুল কাইয়ুম।


দেশীয় নানান গানকে এখনো নিজের কণ্ঠে বাঁচিয়ে রেখেছেন কটিয়াদীর উত্তর লোহাজুরী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম। পেশায় স্কুলশিক্ষক হলেও গান যেন তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা এক অনুভূতির নাম। ৬৯ নং চরকাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তিনি। গানের পাশাপাশি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দোতারা, তবলা, বাঁশি, খঞ্জনি, হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন যন্ত্র তিনি বাজিয়ে চলেছেন।


রেডিওতে প্রথম গান শোনার পর থেকেই গান যেন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান হয়ে আছে। এরপর থেকে নিজেই নিয়মিত গানের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় অতীত ভুলতে বসেছে, সেই সময়ে সংগীতপ্রেমী আব্দুল কাইয়ুম পুরোনো ঐতিহ্যকে লালন করার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। গানকে মনের শান্তির উৎস মনে করে এখনো নিরবে-নিভৃতে চর্চা তাঁর। একই সঙ্গে দেশীয় গান সংরক্ষণে কণ্ঠে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন তিনি।


কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ভাণ্ডার, যেখানে হাওর-বাওর, নদী আর বিস্তীর্ণ সমতলভূমি মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি। এ মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প। একসময় ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি, বাউল গান এবং পালাগানের মতো লোকসংগীতের ব্যাপক প্রচলন দেখা যেত। এসব গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাত। এখনো বাঁশির সুর মনকে মাতিয়ে তোলে।


জানা যায়, একসময় গ্রামবাংলায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল না। টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটের অভাবে মানুষ তাদের অবসর সময় কাটাত লোকসংগীতের আসরে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই চিত্র বদলে গেছে। টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা মানুষের বিনোদনের ধরনকে আমূল বদলে দিয়েছে। এখন মানুষ ঘরে বসেই বিভিন্ন মাধ্যমে বিনোদন গ্রহণ করছে। ফলে আগের মতো জারি-সারি বা বাউল গানের আসর আর তেমন দেখা যায় না। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতির ধারাগুলো।

রাতের অন্ধকারে গ্রামের মাঠ বা উঠানে বসত জারি-সারি কিংবা বাউল গানের আসর। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এসব আসরে অংশ নিত। গানের সুর, ঢোলের তালে আর গায়কদের আবেগময় পরিবেশনায় তৈরি হতো এক অন্যরকম আনন্দঘন পরিবেশ।


গানপ্রেমী আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়েই তাঁর গানের প্রতি ভালো লাগা শুরু। ১৯৯২ সালের দিকে তাঁর পিতা ফুলু মিয়া রেডিওতে সংগীত শুনতেন। পিতার পথ ধরে তাঁরও বাংলা গানের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। নেশা থেকে একসময় গানই যেন হয়ে ওঠে আত্মার খোরাক। ঢাকা কবি নজরুল কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পরবর্তীতে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে সংগীতে কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তঃপিটিআই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন নিয়মিত শিল্পী। এছাড়াও কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


সংগীতপ্রেমী আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার বলেন, “লোকসংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কিশোরগঞ্জের জারি, সারি, বাউল ও অন্যান্য লোকগানের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে এই সংস্কৃতিকে পরিচিত করে তুলতে পারলে হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই প্রাণবন্ত লোকজ আসর, আর বেঁচে থাকবে আমাদের শিকড়ের সুর।


তিনি আরো বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে আমাদের মতো বাংলা গানপ্রেমীদের সুযোগ দিলে এর প্রসার ঘটতে পারে। তবে এই ঐতিহ্য সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।”


কৃতজ্ঞতায়: ছাইদুর রহমান নাঈম

পজিটিভ বাংলাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।