_copy7.webp)

আগে কখনো মৌসুমি অ্যালার্জির সমস্যা ছিল না, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে হঠাৎ হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে অনেকেরই। শুধু বয়স নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দেওয়া এবং পুরোনো সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ কী, তা জানা জরুরি।
বিশ, ত্রিশ কিংবা চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর অনেকেরই প্রথমবারের মতো মৌসুমি অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেয়। আগে হে ফিভার বা পরাগরেণুজনিত অ্যালার্জি না থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসক কারা ওয়াদার তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে আক্রান্ত হন। ৩১ থেকে ৪৬ বছর বয়সীদের মধ্যে নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দেওয়ার হার প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। এর ফলে পরাগরেণুর মতো অ্যালার্জেনের প্রতি শরীর নতুন করে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে থাকা, গর্ভাবস্থা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা কিংবা নতুন কোনো এলাকায় বসবাস শুরু করাও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া, সংক্রমণ ও বায়ুদূষণ নাক ও শ্বাসনালির ভেতরের আবরণে ক্ষতি করতে পারে। এতে অ্যালার্জির উপসর্গ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বায়ুদূষণের কারণে পরাগরেণুর প্রদাহ সৃষ্টির ক্ষমতাও বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মৌসুমি অ্যালার্জি বাড়ার পেছনে পরিবেশগত পরিবর্তনেরও ভূমিকা রয়েছে। গত এক শতাব্দীতে অণুজীবের বৈচিত্র্য কমে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অ্যালার্জিজনিত রোগের বিস্তারে প্রভাব ফেলেছে।
বয়স বাড়লে কী অ্যালার্জি আরও বাড়ে?
বয়সের সঙ্গে মৌসুমি অ্যালার্জির তীব্রতা সব সময় বাড়ে না। কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়তে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে কমেও যায়।
চিকিৎসক কারা ওয়াদা বলেন, “৬৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা কমে আসে। এই পরিবর্তনকে বলা হয় ‘ইমিউনোসেনেসেন্স’।”
তবে, পরিবেশগত কারণে অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়তে পারে। পরাগরেণুর মৌসুম দীর্ঘ হওয়া এবং বাতাসে এর ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় অনেকের সমস্যা তীব্র হচ্ছে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে উত্তর আমেরিকায় পরাগরেণুর মৌসুম প্রায় ২০ দিন দীর্ঘ হয়েছে। একই সময়ে বাতাসে পরাগরেণুর ঘনত্ব বেড়েছে ২১ শতাংশ।
অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের পার্থক্য
হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা কিংবা গলায় শ্লেষ্মা জমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই সেটিকে অ্যালার্জি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব সমস্যা নন-অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কারণেও হতে পারে।
চিকিৎসক মেগান ডব্লিউ শেফার্ড বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নতুন করে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়া কিংবা আগে থেকে থাকা সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে নন-অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ভূমিকা রাখতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক- দুই ধরনের রাইনাইটিসই থাকতে পারে।’
দুই রোগের উপসর্গ প্রায় একই রকম। নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি ও গলায় শ্লেষ্মা জমা- উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তবে, নন-অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে সাধারণত চুলকানির প্রবণতা কম থাকে। রোগ দুটির কারণ ভিন্ন হওয়ায় চিকিৎসাপদ্ধতিও এক নয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে নন-অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকার সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে অ্যালার্জির ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : রিয়েল সিম্পল
সাপ্তাহিক বিশেষ কড়চা নিয়ে আরও পড়ুন

.webp&w=2048&q=75)

.webp&w=2048&q=75)
.webp&w=2048&q=75)
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।