_copy7.webp)

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলো শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, নিরাপত্তা সূত্রের দাবি অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা মোট আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, এর মধ্যে চারটি ড্রোন তোরখাম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এবং বাকি চারটি কোহাটের কাছের পার্বত্য এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলো শনাক্ত করার পর সময়মতো প্রতিহত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভূপাতিত ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর সেগুলো হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। পাক-আফগান সীমান্তে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সক্রিয় ও প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ ঘটনাকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্যের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে আফগানিস্তান থেকে কুররাম সেক্টরে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজি’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অনুপ্রবেশের চেষ্টাও ব্যর্থ করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়। সীমান্তে মোতায়েন পাকিস্তানি সেনারা সেই চেষ্টা প্রতিহত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সূত্র আরও জানিয়েছে, অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আফগান তালেবান সীমান্তে পাকিস্তানের কয়েকটি পোস্ট লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র ও মর্টার দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী আফগান তালেবানের কয়েকটি সীমান্ত পোস্ট, মর্টার অবস্থান ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযানে আর্টিলারিসহ হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কোহাট, হাঙ্গু ও থাল এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কথিত আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোহাটে কয়েকটি হামলায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, কোহাট, হাঙ্গু ও থালের আশপাশে গোয়েন্দাভিত্তিক স্থল অভিযান চালানোর পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটিতে নিয়ন্ত্রিত বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্ব নিয়ে আরও পড়ুন





সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।