home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


চীনের বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

মো. নূর নবী শেখ
আন্তর্জাতিক ডেস্ককলম২৪.কম

আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৩৬

Facebook
Twitter

চীনের বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৈঠকের আগে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শক্তিশালী অবস্থায় থাকায় বড় কোনো ছাড় দেওয়ার তাড়া শি জিনপিংয়ের নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চার মাস আগে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠকের পর চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

তাই এবার দুই নেতার বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তির চেয়ে গত বছর হওয়া বাণিজ্যবিরতি আরও কিছুদিন চালু রাখার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। মূল আলোচনার বিষয় হবে, দুই দেশ গত বছর যে বাণিজ্যবিরতিতে পৌঁছেছিল, সেটি আরও বাড়ানো হবে কি না। ওই সমঝোতার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জন জিনের মতে, শি জিনপিং এই বৈঠক থেকে বড় কোনো তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছেন না। বরং বাণিজ্যবিরতি বজায় রেখে চীনকে আরও শক্তিশালী করার সময় নিতে চাইছেন।

বড় চুক্তির সম্ভাবনা কম

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও বৈঠক থেকে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।রোববার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং বৈঠক করেছেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল নয়, এমন পণ্যের বাণিজ্য নিয়ে সম্ভাব্য কিছু সমঝোতার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যবিরতিতে যাওয়ার পর তার মনোযোগ ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভাগ হয়ে যায়।

চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট থাকলেও দেশটির রফতানি শক্তিশালী রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অনেকে এটিকে ‘চায়না শক ২.০’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অনলাইন বিক্রেতা শেইন ও টেমুর মতো প্রতিষ্ঠানের সস্তা পণ্য আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেও, চলতি বছর চীন যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ধরনের পণ্য বিক্রি করেছে, তার অর্ধেকের বেশি পণ্যের রফতানি ২০২৫ সালের তুলনায় বেড়েছে।

চীনের কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাও থাকতে পারেন।

সিএসআইএসের চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক চাপের মাধ্যমে চীনকে ছাড় দিতে বাধ্য করার পরিকল্পনা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।

বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুও উঠতে পারে। চীনের দাবি করা এবং স্বশাসিত তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য শি জিনপিং ট্রাম্পের ওপর চাপ দিতে পারেন বলে এশিয়ার কিছু মার্কিন মিত্রের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় শি জিনপিং একাধিকবার তাইওয়ান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন। এর মধ্যে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি এবং দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজকে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাইওয়ান ও জাপানের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প এই বিষয়টি ব্যবহার করতে পারেন।

এর বিনিময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িংয়ের বিমান বা কৃষিপণ্য কিনতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সংকট বাড়াতে ভূমিকা রাখা ফেন্টানিল তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে।

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উ শিনবো বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন আগের তুলনায় বেশি ‘লেনদেনভিত্তিক’ হয়ে উঠেছে। তার মতে, ওয়াশিংটন বাণিজ্য আলোচনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কিন্তু বেইজিংয়ের কাছে তাইওয়ান ইস্যুটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ইরানের ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা

ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করতে চীনকে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, ইরানের ওপর চীনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে ওয়াশিংটন মনে করে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে শি জিনপিংয়ের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমন কোনও পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা অবগত নয়।

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিল। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের বিরুদ্ধে এখনও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ইরানসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ট্রাম্প চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাইছেন। একই ধরনের স্থিতিশীলতা চীনেরও প্রয়োজন।

টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের গবেষক রুবি ওসমানের মতে, দুই নেতার কাছেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা সুবিধাজনক। ট্রাম্পের কাছে এখন ইরান গুরুত্বপূর্ণ, আর শি জিনপিংয়ের কাছে ট্রাম্পের পরবর্তী সময়ের জন্য চীনের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : রয়টার্স



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।