home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


চুয়েটে রাজনৈতিক ভিসি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রয়োজন: আসিফ মাহমুদ

মো. নূর নবী শেখ
ডেস্ক রিপোর্টকলম২৪.কম

আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫০

Facebook
Twitter

চুয়েটে রাজনৈতিক ভিসি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রয়োজন: আসিফ মাহমুদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পুরনো উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ১৬ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন, নাকি যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে নিয়োগের প্রধান বিবেচনা করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাঠকের জন্য আসিফ মাহমুদের পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো—

‘১৬ দিন ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। চুয়েটের বর্তমান সংকটকে শুধু একজন উপাচার্যকে সরিয়ে আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।

২৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায়, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাতে কোনো কারণ প্রকাশ না করেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এবং কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, যোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যদি সরকারের বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পান, তাহলে সেই নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের কারণ জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির কারণে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না, অনলাইনে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন, মশাল মিছিল, গণস্বাক্ষর, গ্রাফিতি, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তাদের দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে কর্মবিরতিতে গেছেন।

অথচ এতদিনেও শিক্ষার্থীদের দাবির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে খারিজ করা যায় না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অনলাইনে দায়িত্ব পালন করা নতুন উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা। ব্যাংকে মেইল করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছেন।

প্রশ্নটা খুব সরল। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন, নাকি তার যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ হবে নিয়োগের প্রধান বিবেচনা?

চুয়েটের শিক্ষার্থীরা কোনো দলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে দিতে চান না। তারা এমন একটি প্রশাসন চান, যার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

চুয়েটে শিক্ষাজীবন দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ। এর দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

সরকারের উচিত রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত এই নিয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের দপ্তর নয়। চুয়েটেও রাজনৈতিক ভিসি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রয়োজন।’



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।