

আমরা পরাধীন ছিলাম বৃটিশদের হাতে। সেই বৃটিশরা আবার ঢুকেছিলো বাংলা হয়ে। বাংলা দিয়ে ঢুকে তারা ভারতবর্ষ দখল করেছিলো। তখনও হিন্দু মুসলিম দঙ্গা হতো ভয়ানকভাবে। সেই দাঙ্গার ভিতরের ষড়যন্ত্রেও ছিলো ব্রটিশরা। তাদের সাজানো উপকরণরা সেই দাঙ্গায় নিয়ম করে পেট্রোল ঢালতো, যেমন এখন ঢালে এনসিপি-শিবিরের জম্বিগুলা। সেই দাঙ্গায় ভারতবর্ষের বোকা হিন্দু মুসলিম নিজের দেশের ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে হাঙ্গামা করতেই থাকলো। আর এই দাঙ্গার ফাঁকে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ দখলে নিয়ে নিলো। এখনো দাঙ্গা হচ্ছে, এখনো ভয়ানক ভাবে শুরু হয়নি, তবে হবে।
ডিপস্টেট একটি পলিসির নাম। সেই পলিসিতে নিয়ন্ত্রণের হাত বদল হয়, কিন্তু পলিসি বদল হয়না। ডিপস্টেট পলিসির প্রথম নিয়ন্ত্রণ ছিলো ক্রুসেডারদের হাতে। ধর্মে যে সাম্রাজ্যবাদের চিন্তা ঢুকেছে, সেই ষড়যন্ত্র এবং প্ল্যানও এসেছে ক্রুসেডারদের মাথা থেকেই। প্রায় হাজার বছরের পুরানো পলিসির নিয়ন্ত্রনের হাত বদল হয়েছে শুধু। সেই ডিপস্টেট পলিসির নিয়ন্ত্রণ যখন ব্রিটিশদের হাতে এসেছে, তখন তারা পুরা পৃথিবী শাসন করেছে। এখন যেমন শাসন করছে আ"মেরিকা। এই শাসনের ভার তো আর এরা এমনি এমনি পায় না। যে যতবড় শয়তান এবং ষড়যন্ত্রকারী সেই এই ডিপস্টেট পলিসির নিয়ন্ত্রণ পায় এবং এদের মুখোশটা থাকে সভ্যতার।
যাই হোক, এই বৃটিশরা ভারতবর্ষ দখল করতে ঢুকলো বাংলা হয়ে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুরুতে ১৬০৮ সালের দিকে ভারতের পশ্চিম উপকূলে (সুরাট) কেবল ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা বুঝতে পারে, সে সময়ের বাংলা সুবাহ (বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা) ছিল মোগল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ধনী এবং উর্বর অঞ্চল। এখানকার মসলিন, সিল্ক, মসলা এবং সোরার (বারুদ তৈরির উপাদান) ব্যবসা ছিল দারুণ লাভজনক। বাংলায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং ফরাসি বণিকদের হঠানোর জন্য ব্রিটিশরা ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতার সুযোগ নিয়ে লর্ড ক্লাইভ নবাবকে পরাজিত করেন। এটিই ছিল ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কি মেলে? এখানে এখন ভারতবর্ষ নেই। কিন্তু বাংলার শেষ নবাবের জায়গায় একদম যেকোন চিন্তাতেই আপনারা শেখ হাসিনাকে রাখতে পারেন। আর পৃরধান সেনাপতি কে, নিশ্চয়ই আর নাম নিয়ে বলতে হবে না।
আবার, এই বৃটিশবিরোধী আন্দোলনও শুরু হয় অবিভক্ত বাংলা থেকে। যারা জেনজিরা আছে, তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করলেও এগুলো জানতে পারতো। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন অবিভক্ত বাংলা থেকেই সবচেয়ে তীব্রভাবে দানা বেঁধে উঠেছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকেই বাংলার মানুষ নানাভাবে এই শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
প্রাথমিক পর্বের সশস্ত্র বিদ্রোহ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও বিপ্লবী আন্দোলন—সবক্ষেত্রেই বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছিল। প্রাথমিক সশস্ত্র ও কৃষক বিদ্রোহ, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০): মজনু শাহ, ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা (১৮৩১), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬০), ফরায়েজী আন্দোলন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার তরুণেরা সরাসরি সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশদের তাড়ানোর পথ বেছে নেন। খুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী: কিংসফোর্ড নামক এক অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যার চেষ্টা করেন। ১৯০৮ সালে খুদিরামের ফাঁসি হয়, যা বাংলার তরুণের মনে ব্রিটিশবিরোধী আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
মাস্টারদা সূর্য সেন ১৯৩০ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (যিনি পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে শহীদ হন) এবং কল্পনা দত্ত।
বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) বুড়িবালামের তীরে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন। বিনয়-বাদল-দীনেশ (রাইটার্স বিল্ডিংস অভিযান) ১৯৩০ সালে এই তিন তরুণ কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংসে (ব্রিটিশদের ক্ষমতার কেন্দ্র) ঢুকে কারা বিভাগের প্রধান সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। রাজনৈতিক ও গণ-আন্দোলন সশস্ত্র লড়াইয়ের পাশাপাশি অহিংস ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমেও বাংলার নেতারা পুরো ভারতকে পথ দেখিয়েছেন।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু: তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান পুরোধা। ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করতে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army) গঠন করেন এবং "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" স্লোগান দিয়ে কাঁপিয়ে দেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি এবং ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে (স্বদেশী আন্দোলন) তাঁরা সম্মুখভাগে ছিলেন।
এতো অল্প কথায় আসোলে বাংলার জিওলজিকাল অবস্থানকে বোঝানো সম্ভব না। ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র, তার প্রবেশদ্বার ছিলো বাংলা। আবার ভারতকে মুক্ত করতে যে আন্দোলন, সেটাও হয়েছিলো বাংলা থেকে। এইজন্যই আমি প্রথম থেকেই একটা কথা চিৎকার করে যাচ্ছি, আরর সেটা হলো দক্ষিন এশিয়াকে শান্ত করতে গেলে বাংলাকে শান্ত করার কোন বিকল্প নাই।
আজ আওয়ামীলীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সেই ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন। বাংলায় তৎকালীন সময়েই কি অনেক ভালো ভালো বড় মানের নেতা ছিলো না? ছিলো। কিন্তু শেখ মুজীব এমন একজন ছিলেন, যেনিজ ধর্মে বিশ্বাসী হয়েও একটি সেকুলার রাষ্ট্রচিন্তা করতে পেরেছিলেন। যেখানে ৪৭ এ ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে ভারতের দুপাশে পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান করা হয় কার প্রেশকিপশনে? সেই লর্ড ক্লাইভদের ডিপস্টেট থেকেই পাকিস্তানকে এভাবে ভাগ করা হয়। কারন পূর্ব পাকিস্তান তো আর চরিত্রে পাকিস্তান ছিলো না, পূর্ব পাকিস্তান তখনও সাড়ে তিন হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে লালন করা বাঙ্গালীই ছিলো। এবং এই দুই পাকিস্তান ভাগ হয়ে যে বাংলা তার স্বরুপে ফিরে আসবে, এটা কি মনে করেন ডিপস্টেট জানতো না? জানতো।
বাংলার জন্ম হয়েছে যার হাত ধরে, সেই বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কেউ বাংলাকে স্বাধীন করতে পারতো না। কারন বাংলা পূন্যভূমি, এখানে পবিত্র আত্মা ছাড়া নেতৃব টিকবে না। তখন একে ফজলুল হক, ভাসানীরাও ছিলো। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান ভাগে কাদের হাত ছিলো সবাই জানে।
সেই পবিত্র ভূমির নেতা ছিলো শেখ মুজীব, সে অন্তরে অসাম্প্রদায়িক বাংলাকে ধারণ করতো। সে গণতন্ত্রের সাথে, সমাজতন্ত্রেরও চিন্তা করেছিলো। সে জাতীবাদ আর জাতিসত্বার প্রশ্নে ছিলো অনড়, সব ধর্মের প্রতি সহমর্জাদাকে ধারন করে সে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চেয়েছিলো। তারই ৪৯ এ গড়া দলটি ৫২ র ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, ৫৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়। এরপর আসে ৭ই মার্চের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পিতা মঞ্চে এসে বললেন তার সেই তর্জনী উঁচু করে বললেন, " এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা"। তাই যারা স্বাধীনতার ঘোষক হওয়ার অপচেষ্টা করছে, তারা সব বাণের জলে ভেসে গিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে পরবে।
সম্পাদকীয় ও মতামত নিয়ে আরও পড়ুন





সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
নূর জাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।