

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) নির্বাচনে কথিত হস্তক্ষেপ এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক আইনজীবী সংগঠন কমনওয়েলথ লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (CLA) এবং ল-অ্যাসোসিয়েশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (LAWASIA)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, তারা এমন একাধিক প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে এসসিবিএর সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন আইনজীবীকে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বা প্রার্থী হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কোনো শুনানি, লিখিত ব্যাখ্যা, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা আপিলের সুযোগ ছাড়াই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু আইনজীবীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
CLA ও LAWASIA উল্লেখ করে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বর্তমানে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত প্রায় ২০০ আইনজীবী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ১৩টি বার সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
এছাড়া সংগঠন দুটি জানায়, বাংলাদেশের সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি এবং কর্মরত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়েরের খবর তারা পেয়েছে। এসব মামলার কিছু সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগকেও তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অন দ্য রোল অব লইয়ার্স, ১৯৯০’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, আইনজীবীদের অবশ্যই ভয়ভীতি, হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মতপ্রকাশ, সংগঠন গঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে CLA ও LAWASIA বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বার নির্বাচনে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা, সব যোগ্য আইনজীবীর জন্য বৈষম্যহীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ ও আপিলের ব্যবস্থা রাখা এবং বিচারক ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কথিত রাজনৈতিক ও ভিত্তিহীন মামলাগুলোর পর্যালোচনা করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনের শাসন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য আইনজীবী পেশার স্বাধীনতা একটি মৌলিক শর্ত। সেই স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন LAWASIA-এর সভাপতি Yap Teong Liang এবং CLA-এর সভাপতি Steven Thiru। তারা জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং আইনজীবী পেশার স্বাধীনতা ও আইনের শাসন রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনজীবী সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন





সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।