

শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং জন্মগত ত্রুটি ‘ক্লাবফুট’ বা মুগুর পা সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে ফেনীতে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে ২০২৬) ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে 'আর্লি ডিটেকশন অ্যান্ড রেফারেল (ইডিআর)' শীর্ষক এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। ইউনাইটেড পারপাস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে, মিরাকলফিট-এর আর্থিক সহায়তায় এবং ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। কর্মশালায় ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩৮ জন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং ১৮ জন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ক্লাবফুট বা মুগুর পা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষ করে তোলা। ক্লাবফুট শিশুদের এমন একটি জন্মগত ত্রুটি, যেখানে পায়ের পাতা ভেতরের দিকে বাঁকানো থাকে। তবে জন্মের পরপরই এই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে এবং বিনা অস্ত্রোপচারে ‘পনসেটি পদ্ধতি’ ব্যবহার করে সঠিক চিকিৎসা দিলে শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। তথ্যের অভাবে বা দেরিতে চিকিৎসা শুরু করলে এই ত্রুটি জীবনভর পঙ্গুত্ব ও সামাজিক বঞ্চনার কারণ হতে পারে। তাই দ্রুত এই সমস্যাটি চিহ্নিত করে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর (রেফারেল) বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এস. এম. সোহরাব আল হোসাইন এবং উপজেলা সদরের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আকলিমা খাতুন।
প্রকল্পটির লক্ষ্য সম্পর্কে ইউনাইটেড পারপাস ও ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক জানান, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ফেনীর প্রতিটি আনাচে-কানাচে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া। অবহেলা বা না জানার কারণে কোনো শিশু যেন মুগুর পা নিয়ে কষ্ট না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই মূল কাজ। জন্মের সাথে সাথেই এই ত্রুটি শনাক্ত করে শিশুকে দ্রুত বিশেষায়িত ক্লাবফুট সেন্টারে নিয়ে আসাই চিকিৎসার প্রথম ধাপ উল্লেখ করে তিনি জানান, সমাজ থেকে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিটি শিশুর বাধাহীন শৈশব নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আকলিমা খাতুন বলেন, ‘চিকিৎসা চলাকালীন কোনো ধরনের অবহেলা করার সুযোগ নেই এবং নির্দিষ্ট নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের পরিচর্যার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, নিয়মিত ফলোআপ না করলে এবং সঠিকভাবে ব্রেস না পরালে পা রিল্যাপ্স হওয়া বা পুনরায় বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রধান অতিথি ও রিসোর্স পার্সন ডা. এ. এস. এম. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি এবং সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। গ্রামে-গঞ্জে শিশু জন্মের পরপরই মুগুর পা আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হলে, একটি শিশুও আর শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে বড় হবে না। স্বাস্থ্যকর্মীদের সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সময়ে একটি রেফারেল একটি শিশুকে তার স্বাভাবিক হাঁটার আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। অজ্ঞতার কারণে কোনো শিশু যেন পরিবারের বোঝা না হয়, সেদিকে সবার সম্মিলিতভাবে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, তারা এখন আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করতে এবং সঠিক জায়গায় রেফার করতে পারবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়িয়ে ক্লাবফুট চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং ফেনী জেলায় মুগুর পা আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত ও সফল চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এ সময় আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপী ট্রিটমেন্ট সেন্টার এর পক্ষ থেকে আজিম উদ্দিন সোহাগ ও ইমদাদুল হক পাভেল উপস্থিত ছিলেন।
দেশজুড়ে নিয়ে আরও পড়ুন




.webp&w=2048&q=75)
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান
নূর জাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।