কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থেকে ঢাকার মহাখালী গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জলসিড়ি এক্সপ্রেস (প্রা:) লিঃ একটি সুপরিচিত নাম। বলা যায়, কটিয়াদী উপজেলা থেকে মহাখালী যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এই পরিবহন কোম্পানির হাত ধরেই। সেই সাথে পার্শ্ববর্তী উপজেলা নান্দাইল, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুরের মানুষের কাছেও জলসিড়ি এক্সপ্রেস একটি পরিচিত নাম। ‘আন্তরিক সেবা, নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’ স্লোগান নিয়ে পথচলা এই পরিবহন সংস্থাটির যাত্রা সম্ভবত ২০০৭ সালের কাছাকাছি সময়ে। দীর্ঘ পথচলায় বহু মানুষের স্মৃতি, আবেগ ও নির্ভরতা জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বিশেষ করে, এখনো ঢাকা শহরের মতো ব্যস্ততম রাস্তায় যখন এই বহুল পরিচিত লাল, নীল, সবুজ, সাদা, ধূসর রঙের সংমিশ্রণে রং করা বাসটি চোখে পড়ে, তখন যেন সত্যিই এক গভীর নস্টালজিক অনুভূতি সৃষ্টি হয়, সেটা বুঝানো খুব দুষ্কর!
কিশোরগঞ্জ জেলার একাধিক উপজেলার মানুষের কাছে এটি শুধু একটি পরিবহন সংস্থা নয়, এটি যেন একটি বিশ্বস্ত সংযোগের প্রতীক। সেই সাথে কাপাসিয়া ও টোক এলাকার মানুষের কাছেও এটি খুব পরিচিত পরিবহন কোম্পানি। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে, তখন দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, জলসিড়ি এক্সপ্রেসের অভ্যন্তরীণ সেবার মানে সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অনুপস্থিত! সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং শারীরিক গঠনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা হয়তো পরিবহন সংস্থাটির মালিক কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় এখনো আসেনি।
সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বাসের আসন ব্যবস্থা! ২০২৫ সালে এসেও জলসিড়ির বাসের সংকীর্ণ বসার সিটগুলো যাত্রীদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ। এক সময় হয়তো এই আসনগুলো মানানসই ছিল, কিন্তু এখনকার প্রেক্ষাপটে এটি সত্যিই কষ্টকর। বাংলাদেশে বর্তমানে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন জনস্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এমন সংকীর্ণ আসন রাখা কেবল অস্বস্তিকরই নয় বরং চরম ভোগান্তির! এটি যাত্রীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের এক ধরনের উদাসীনতাও বটে। প্রশ্ন জাগে, পরিবহন কর্তৃপক্ষ কি আদৌ তাদের নিজেদের বাসে নিয়মিত যাতায়াত করেন? যদি করতেন, তবে নিশ্চয়ই তারা এই অসুবিধাটি অনেক আগেই অনুধাবন করতে পারতেন।
একটি ব্যবসা-সফল ও জনপ্রিয় পরিবহন কোম্পানি হিসেবে জলসিড়ি এক্সপ্রেসের দায়িত্ব শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা। ‘আস্থার প্রতীক’ এই তকমা ধরে রাখতে হলে এখন সময় এসেছে অভ্যন্তরীণ সেবার মানকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করার। সামান্য আরামও যাত্রীর পুরো যাত্রার অভিজ্ঞতাকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। আর এই আধুনিকায়ন করার ক্ষেত্রে যদি ভাড়ার মূল্যের সামঞ্জস্য বিধান করতে হয় সেটিও করুন।
অতএব, জলসিড়ি এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষসহ কিশোরগঞ্জ জেলার সামগ্রিক পরিবহন সেক্টরের মান উন্নত করার জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। যাত্রীদের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে আসনগুলো পুনর্বিন্যাস করা, আধুনিক মানসম্মত সিট স্থাপন করা এবং বাসের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই পরিবর্তন কেবল যাত্রীদের ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যই বাড়াবে না, বরং পরিবহন সংস্থাটির সুনাম ও ব্যবসাকেও আরও লাভজনক করবে। নস্টালজিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের একটু আধুনিক, আরামদায়ক আসনে বসে ভ্রমণ করার এইটুকু প্রত্যাশা বোধ করি অনুচিত নয়!
জনস্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশিক্ষক, ঢাকা।
মন্তব্য করুন