রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ। পার্কের কিছু নির্জন স্থানে নিয়মিতভাবে দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। এতে করে পার্কে ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দিনের বেলায় পরিবার, শিশু-কিশোর ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকে উদ্যানটি। অনেকেই বিকেলের অবসর সময় কাটাতে কিংবা শরীরচর্চার জন্য এখানে আসেন। তবে সন্ধ্যা নামার পরই ধীরে ধীরে পাল্টে যায় পার্কের চিত্র। বিশেষ করে লেকপাড়ের কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন ও নির্জন কোণে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর কিছু দালাল ও নারীদের দলবদ্ধভাবে ওইসব স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। অনেক সময় তারা আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে উদ্যানে ঘুরতে আসা পরিবার ও তরুণ-তরুণীরা অস্বস্তিতে পড়েন এবং অনেকেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, সন্ধ্যার পর অনেক সময় উদ্যানের পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিছু মানুষের আচরণ ও চলাফেরা দেখে বোঝা যায় এখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে এখানে সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।
একজন নিয়মিত দর্শনার্থী বলেন, ‘দিনের বেলায় পরিবেশ খুব ভালো থাকে। কিন্তু সন্ধ্যার পর কিছু অসামাজিক লোকজনের কারণে পুরো পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, উদ্যানের বেশ কিছু স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধপ্রবণ লোকজন সহজেই সুযোগ পাচ্ছে। অনেক সময় নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে এবং উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলো স্থাপন করা হলে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি পার্কের প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। উদ্যানের আশপাশে পুলিশের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ যদি অসামাজিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন