ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দর্শন বিভাগে শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ‘ছাত্রলীগ’ তকমা দিয়ে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবিও তোলেন তারা।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) নেতা ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রমাণ ছাড়াই তার ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রশক্তি’ সংগঠনের কর্মীরা পাভেলকে কয়েক দফা পিটিয়েছে, শিকল দিয়ে মারধর করেছে এবং তার আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর জামান জুয়েল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে। কিন্তু এখন জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে যে ‘মব কালচার’ তৈরি করা হচ্ছে, তা ওই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি। এতে জুলাইয়ের সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ হচ্ছে এবং ছাত্ররাজনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, কেউ যদি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকেও থাকে বা কোনো অপরাধ করে থাকে, তবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু মব তৈরি করে কাউকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা বা হত্যা করা কোনো সমাধান হতে পারে না।
মন্তব্য করুন