আড়ংয়ের উপর আমাদের গোস্বার অন্ত নেই। নানা ওসিলায় আমরা আড়ং বয়কটের ডাক দিয়ে থাকি। আবার আড়ং এ শপিং না করলে আমাদের প্রিসটিজ সংকট হয় সেটাও বুঝি।
এবার আড়ং সিদ্ধান্ত নিল আড়ংয়ের প্রোডাক্ট কেনার পর আমাদের ব্যাগের মূল্য দিতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড একটি কাগজের ব্যাগের মূল্য ১৫ টাকা। এই ১৫ টাকা আমরা কিছুতেই দেব না। এমনিতেই…
* আড়ং এর পণ্যের দাম যথেষ্ট বেশি।
*আড়ং এর পণ্য খুব একটা টেকসই হয় না।
* লিখিত মূল্যের উপর ১০% ভ্যাট আদায় করে নেয়।
এগুলো নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। মাথা ব্যথা হচ্ছে ঐ ১৫ টাকা। আমাদের যুক্তি হল আমি ১৫০০০ টাকা দিয়ে শাড়ি কিনলাম আর ১৫ টাকার ব্যাগ আমাকে ফ্রি দিবে না! এই ভাবনার পেছনে আমাদের একটি সাইকোলজিকাল হিস্ট্রি আছে। আমরা ফ্রি পেতে পছন্দ করি। সেটা যত কমই হোক। এই চেতনাকে পুঁজি করে বহু ব্যবসায়ী বহু অফারের ফাঁদে ফেলে আমাদের বহু টাকা ছিনতাই করে নিচ্ছে। সেটাও আমাদের ভাবনার বিষয় না। আমাদের ভাবনার বিষয় ব্যাগের মূল্য কেন নেবে।
কেন নিবে এর সহজ উত্তর হচ্ছে, আপনি তো ব্যাগের মূল্য দেননি। আপনি দিয়েছেন পণ্যের মূল্য। সুতরাং ব্যাগ আপনি পাবেন না। তাহলে এতদিন কেন ব্যাগ দিল। ধরুন এতদিন আপনাকে গিফট দিয়েছে। সেটা ছিল তাদের মার্কেটিং পলিসি। গিফট তো আর জোর করে আদায় করা যায় না। এটাও আমাদের একটি ঐতিহাসিক স্বভাব। আমার বড় ভাই প্রতি ঈদে আমাকে গিফট দেয়। আমি খুশি। এবার ঈদে গিফট বন্ধ করে দিল। তাকে আমি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এতদিন যেহেতু দিয়েছে সেহেতু কেয়ামত পর্যন্ত দিতে বাধ্য থাকিবে। এটা আমার দাবি।
যাক সেটা প্রসঙ্গ না।
প্রসঙ্গ হল আড়ং কাগজের ব্যাগ ব্যবহার হ্রাস করার লক্ষ্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা হলো, আপনি যদি কাগজের ব্যাগ ব্যবহার না করেন তাহলে আপনার মূল্য থেকে ১৫ টাকা ডিসকাউন্ট দেয়া হবে। এই ডিসকাউন্ট তিনটি পদ্ধতি পাবেন:
১. আপনি বাড়ি থেকে কোন না কোন ব্যাগ নিয়ে যাবেন।
২. আপনি কাপড়ের ব্যাগ কিনবেন। কিংবা
৩. আপনি আপনার পণ্য হাতে করে নিয়ে আসবেন।
আর যদি আপনি কোন কাগজের ব্যাগ নিতে চান তাহলে আপনি ঐ ১৫ টাকা ডিসকাউন্ট পাবেন না এবং ব্যাগের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
কাগজের ব্যাগ বৃক্ষ থেকে হয়। এর ব্যবহার কমানো মানে হচ্ছে দেশের বনায়ণে সহযোগিতা করা। আড়ং এই কাজটি করতে চাচ্ছে।
আপনার কিন্তু অপশন আছে। আপনি কোন ব্যাগ কিনবেন না। ১৫ টাকা ডিসকাউন্ট পাবেন। যেকোনো উপায়ে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে চলে আসবেন। তারা কিচ্ছু বলবে না।
বিষয়টা গভীরভাবে ভাবলে কিন্তু আমাদের রিঅ্যাকশন অন্যরকম হবে। বাঙালি জাতি রিএকশনে বিশ্বাসী রেসপন্ডে নয়। Reaction and Respond এর মধ্যে মজার পার্থক্য আছে। রিঅ্যাকশনে অনেক সময় বিবেচনা বোধ কম কাজ করে। অনেক সময় হুজুগ কাজ করে।
রেসপন্ড করা হয় বিচার-বিশ্লেষণ ও বিবেচনা দিয়ে।
মন্তব্য করুন