‘মব’ বাংলাদেশের সমসাময়িককালের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অতি পরিচিত ও চর্চিত একটি শব্দ। ইতোপূর্বে এটি অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আজো ‘মব’ যেন এক মূর্তমান আতংকের নাম।
ইংরেজি শব্দ ‘mob’ এর বাংলা আভিধানিক বা পারিভাষিক অর্থ ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’। অর্থাৎ, এরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন ও বিচারবহির্ভূত ভাবে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে।
বলাবাহুল্য, ৫ আগষ্ট ২০২৪ ছাত্রজনতার প্রবল রোষে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের ভূমিধ্বস পতনের পর সমগ্র দেশে মব মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আগেকার দিনে চোর,ডাকাত,ছিনতাইকারী, ছেলেধরা, শিশুঅপহরণকারীদের বিরুদ্ধে মব সংঘটিত হত। কিন্তু ইতোপূর্বে বিরাজিত মবের বিশেষত্ব হলো -এটি কলকারখানার মতো অর্থনৈতিক মেরুদন্ড গুলোকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আঘাত করেছে জাতির বিবেক- শিক্ষকসমাজকেও। স্বাধীনতার পর ১৯৯০ সালেও এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী কতিপয় কিছু বিশৃঙ্খল ঘটনা ছাড়া এভাবে মব সংঘটিত হয়নি; তখন আক্রান্ত হয়নি রাস্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুই বিভাগ- শিক্ষা ও অর্থনীতি।এমনকি, ঐতিহাসিক ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানেও পাকিস্তান শাসনাধীন এই বঙ্গে এজাতীয় সংবেদনশীল বিভাগগুলো আক্রান্ত হয়নি। স্বৈরাচারের দোসর তকমা পেয়ে মবের ভয়ে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছে। মবের প্রকোপে অনেক শিল্পকারখানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নতুন করে বেকার সৃষ্টি হয়েছে। নীচে নেমে গেছে অর্থনীতির সূচক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো(বিবিএস) এর শ্রমশক্তি জরিপের তথ্যানুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে(জুলাই-সেপ্টেম্বর) বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। দেশের অর্থনীতি ক্রমশঃ নিম্নগামীরত। বিবিএস এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। করোনা মহামারির অর্থবছর বাদ দিলে বিগত ৩৪ বছরের ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে যা উদ্বেগের বটে! এদিকে ইতিপূর্বে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ নামক অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশে অচিরেই আরও ৩০ লাখ মানুষ ‘অতিদরিদ্র’ হতে যাচ্ছে। অতিদারিদ্র্যের হার বেড়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হবে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি আমাদের জন্য এক অশনি বার্তা!
এদিকে গত দেড় বছরে মবের প্রকোপে মানবাধিকার ভয়ংকর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যানুযায়ী, ৮ আগস্ট ‘২০২৪ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এর সর্বশেষ মেয়াদকাল পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১১৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৭৪ জন। দেশব্যাপি আক্রান্ত হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৪৯ জেলায় হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দেশব্যাপি বহু আওয়ামী নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে গুড়িয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেসরকারি সংস্থা ‘আসক’ এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গেল বছরে মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১২৮ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের মোট সময়কালে কমপক্ষে ২৯৩ জন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন মর্মে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মবের ছোবলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল শিক্ষা বিভাগ যা ছিল বিস্ময়কর ভাবে নজিরবিহীন! গতবছর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘ডয়েচে ভেলে’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল; এতে বলা হয়েছে, ৫ আগষ্টের পর সারাদেশে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ২০০০ শিক্ষক কে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ছিল দুইশতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে কলেজ, স্কুল এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এই ‘মব’ থেকে রেহাই পাননি। মারধর এবং মামলা থেকেও তারা রোহাই পাননি। তারা বেতনও পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে, ৮০০ জন শিক্ষক আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। প্রথম দিকে ছাত্রদের দ্বারা এটা সংঘটিত হলেও পরে এর সঙ্গে নানান রাজনৈতিক ও স্বার্থান্বেষীমহলও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়।’ অনেকে মবের ভয়ে এখনো প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন না। মবের কোপানলে অকালে চাকুরী হারিয়ে একাধিক শিক্ষকের করুণ মত্যুও ঘটেছে যা খুবই হৃদয় বিদারক! উল্লেখ্য, বর্তমানে, পরিবার পরিজন নিয়ে এ সকল শিক্ষকরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উল্লেখ্য, মব প্রবণতা শিক্ষার মাহাত্ম্যকে নিদারুণ ভাবে ক্ষুন্ন করেছে যা গভীর হতাশার বটে।
মবের প্রকোপ থেকে বাদ যায়নি খোদ পুলিশ বিভাগও। গতবছর পুলিশের সদ্যবিদায়ী মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ডেয়েচেভেলে কে জানিয়েছিলেন যে, অভ্যুত্থানের ৯ মাস পরও পুলিশের বিরুদ্ধেই প্রতিদিন গড়ে একটার বেশি মব চলেছে। সর্বশেষ গেল এপ্রিলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ৩৭টি মব হয়েছে এবং মার্চে ৩৫টি। এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তারের পর একদল মানুষ সংগঠিত হয়েছে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বা পুলিশের উপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নিতে চাইছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যের ওপর ২২৫টি হামলার ঘটনা ঘটে যার মধ্যে ৭০টি ছিল বড় ধরনের আক্রমণ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৪টি, অক্টোবরে ৩৪, নভেম্বরে ৪৯, ডিসেম্বরে ৪৩, জানুয়ারিতে ৩৮ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দায়িত্ব পালন কালেও অনেক সময় অহেতুক মব পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মর্মে ডয়েচেভেলের তথ্যে উঠে এসেছে। এতে বাদ যায়নি বিদেশীরাও। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গত বছরের ৪ মার্চ ছিনতাইকারী গুজব তুলে একদল ব্যক্তি ইরানের দুই নাগরিককে মারধর করে। এতে ওই দু’জন আহত হন। পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
লক্ষ্যণীয়, তখন তাবৎ মব সৃষ্টি হয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসী ও একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মীদের দ্বারা যাদের অধিকাংশই তরুণ ছাত্র। এমনকি রাস্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থান- আদালতের আঙিনাও বাদ যায়নি মবের ছোবল থেকে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করেও রাজনৈতিক বন্দীরা মবের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক আইনজীবীরাই স্বয়ং আদালত প্রাঙ্গনে এ হেন মব ঘটিয়েছেন যা ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নজিরবিহীন। প্রকাশ্যে একশ্রেণির আইনজীবীদের দ্বারা সংঘটিত এ হেন মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে খোদ আদালতই নীরব দর্শকের ভুমিকায় ছিল যা তখন জনমনে ব্যাপক হতাশার জন্ম দিয়েছিল। খোদ বিচারকরাই মবের শিকার হতে পারেন’- এই ভয়ে আদালত মববাজ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে তখন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে সাধারণ মানুষের ধারণা জন্মেছিল। এমতাবস্থায় দেশের আইন ও বিচার বিভাগের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে হালকা হয়ে গিয়েছিল। মব আতংকের নজিরবিহীন প্রভাব পরেছিল গণমাধ্যমেও। মব ফোবিয়ায় গণমাধ্যমগুলো অঘোষিত সেল্ফ সেন্সরশীপে ভুগছিল।। ফলে এখানে মুক্তমতের চর্চা প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলেই ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা লাগিয়ে মবের কোপানলে পরার আতংকে ভুগছিল তাবৎ গণমাধ্যম!তখন গণমাধ্যমে ‘মব’ হুমকির আশংকা ব্যক্ত করেছিলেন খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ।
তখন বিডিনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মবের হুমকির কারণে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের সংশয়ে আছে; ফিরে এসেছে ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ’। সর্বশেষ আমরা মবের নির্মম ও ঘৃণ্য প্রতিফলন দেখতে পেলাম ডেইলিস্টার ও প্রথম আলোর মতো স্বনামধন্য দুইটি মিডিয়া হাউজ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করার মধ্য দিয়ে।
মবের হুংকার থেকে তখন রেহাই পায়নি রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গণভরসার জায়গা সেনানিবাস পর্যন্ত। তখন এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার ফুয়াদ সাংগঠনিক মহড়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে জনসমক্ষে নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছিলেন মবের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেয়ার। তখন সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ও বিচারিক পদক্ষেপ নেয়নি যা জনসাধারণ কে হতাশ করছিল। আক্রান্তের ভয়ে দেশের মিডিয়াগুলো তখন মবের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে পারেনি মর্মে সচেতন মহলে ব্যাপক সন্দেহ জন্মেছিল।
প্রসঙ্গত, আগে থেকেই আমাদের সমাজে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ‘কিশোার গ্যাং কালচার’ রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যার প্রকোপে সমাজ অনেকটাই ক্ষতবিক্ষত। যখন যে সরকার আসে তারা তখন সেই সরকারের রং ধারণ করে। মবের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ দেড় বছরের নির্লিপ্ত তথা নতজানু ভূমিকার ফলে একই ভাবে ‘মব’ও কালচারে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছিল যা ছিল সত্যিই আতঙ্কের! তবে ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ এর চেয়ে ‘মব কালচার’ অধিকতর ভয়ানক ; কেননা, এটি সমাজের গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রে হুমকি স্বরূপ। এমনকি, এটি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পথে অন্তরায় যা সমাজকে ক্রমশঃ পক্ষাঘাতগ্রস্ত (paralyzed) করে ফেলে। দুর্বল করে ফেলে আইনের শাসনকে। আস্থাহীন করে ফেলে বিচার বিভাগ সহ রাষ্ট্রযন্ত্রকে। ফলে পশ্চাৎপদে থাকে দেশ; চরম ব্যাহত হয় দেশের অগ্রযাত্রা। আতংকের বিষয় হলো, একশ্রেণির কথিত ও তথাকথিত সুশীলবগণ এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গও ‘মব’ কে অভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লবোত্তর একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তা তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করে ফেলেছে। তারা মববাজদের কে প্রয়োজনীয় ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মবের নেপথ্যে সরকারের প্রশ্রয় কে খোলাসা করে মবকে আরো উস্কে দিয়েছিলেন। এতে একশ্রেণির তরুণরা উৎসাহিত হয়ে ‘মব’ কে ‘হিরোইজম’ উপলব্ধিতে নিয়ে তা অনেকটা কালচারে পরিণত করে ফেলেছে। এটা খুবই স্পষ্ট যে, জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে পুঁজি করে একাধিক চিহ্নিত গোষ্ঠী ‘মব’ চর্চা তে ‘ফ্যাসিস্ট বিরোধী’ তকমা জুড়িয়ে ‘সোশ্যাল প্যানিক’ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি সহ কার্যতঃ তাদের বিভিন্ন অশুভ স্বার্থ চরিতার্থ করেছে মর্মে গুরুতর অভিযোগ আছে।এতে জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শিক স্পিরিট রীতিমতো ম্লান হয়ে গেছে। মবের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করলেও তা ‘অসারের তর্জন গর্জনেই সার’ মর্মে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। যেহেতু ‘মব’ আইন ও বিচারের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে, রোধ করে গণতন্ত্রের যাত্রা কে সেহেতু এটি সর্বৈব পরিত্যাজ্য।
জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে সদ্যনির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরপরই সর্বপ্রথম মবের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন যা জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। ইতোমধ্যে মব আশানুরূপ কমলেও থামছেনা; ফলে, হতাশা থেকেই যাচ্ছে।জনসমর্থিত এই সরকার মবের কালচার ও বিস্তার রোধে এখনই বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নিয়ে মবআতঙ্ক থেকে জনগণকে মুক্তি দিয়ে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সচেতন মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
লেখক- কলামিস্ট
মন্তব্য করুন