রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট না পাওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে তারা আর দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যেতে সরকারের কাছে অনুমতি ও অর্থ বরাদ্দ—দুটিই চাওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বরাদ্দ বা অনুমতি না পাওয়ায় কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের আবার কাজে ডাকা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজধানীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর উদ্যোগে দৈনিক ভাতার ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থীকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কাজে যুক্ত করা হয়।
শুরুতে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৪৬ জন শিক্ষার্থী রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেন। পরে পর্যায়ক্রমে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক হাজারে পৌঁছায়।
সর্বশেষ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে ৮৯৬ জন শিক্ষার্থী ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা প্রতিদিন ৫০০ টাকা সম্মানীর ভিত্তিতে কাজ করতেন।
অন্তর্বর্তী সরকার তাদের চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে ডিএমপি জানিয়েছে, অনুমতির মেয়াদ জুন পর্যন্ত থাকলেও অর্থ বরাদ্দ ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভাতা বাবদ অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আমরা সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাই ১ মার্চ থেকে তাদের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, জুন পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি থাকলেও তার আগেই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবার তাদের ডাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন