শিশুদের জন্মগত ত্রুটি ‘ক্লাবফুট’ বা মুগুর পা এর প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত রেফারেলের মাধ্যমে সফল ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনাইটেড পারপাস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এবং মিরাকলফিট এর আর্থিক সহায়তায় ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ‘আর্লি ডিটেকশন অ্যান্ড রেফারেল (ইডিআর)’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সোমবার ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ কুমিল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয়ের সম্মেলন রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জানানো হয়, ক্লাবফুট একটি জন্মগত ত্রুটি, যেখানে শিশুর পা ভেতরের দিকে বেঁকে যায়। সময়মতো এবং সঠিক চিকিৎসা, বিশেষ করে ‘পনসেটি পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি জীবনব্যাপী মারাত্মক অক্ষমতা ও সামাজিক বঞ্চনার কারণ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, নবজাতকদের মধ্যে ক্লাবফুট দ্রুত সনাক্ত করা এবং তাদের বিশেষায়িত কেন্দ্রে রেফার করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আগত মোট ২১ জন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা সদরের মেডিকেল অফিসারবৃন্দ রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্লাবফুট সনাক্ত করতে এবং রোগী রেফারেলের সঠিক প্রোটোকল সম্পর্কে অবগত হয়েছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আয়োজনকারীরা প্রশিক্ষণটি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং সন্দেহজনক ক্লাবফুট কেসগুলো দ্রুত সনাক্ত করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্বাস করেন।
প্রকল্পটির ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক জানান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই জেলা ও উপজেলার প্রতিটি প্রান্তে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়া, যাতে কোনো শিশু মুগুর পা নিয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত ও অবহেলায় বড় না হয়। কমিউনিটি পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং দেরি না করে শিশুকে বিশেষায়িত ক্লাবফুট সেন্টারে রেফার করাই হলো ক্লাবফুট সমস্যা সমাধানের প্রথম ও প্রধান ধাপ। এই লক্ষ্যে ইউনাইটেড পারপাস কর্তৃক বাস্তবায়িত “ওয়াক ফর লাইফ : ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান” প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা জেলায় কাজ করে যাচ্ছে।”
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রধান অতিথি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকা শক্তি হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা, একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আপনাদের প্রাথমিক ও দ্রুত সন্দেহজনক ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের সনাক্তকরণের জন্য সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। কারণ আপনার একটি সঠিক পরামর্শ ও দ্রুত রেফারেল একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুব্যবস্থা করে দিতে পারে।
আমাদের সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত, চাই ক্লাবফুট আক্রান্ত কোন শিশু যেন চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে, ঐ পরিবারের জন্য বোঝা না হয়ে উঠে। ধর্মের প্রকৃত মর্মবাণী ও মূল্যবোধগুলো ধারণ এবং লালন করার মধ্য দিয়ে ক্লাবফুটের মতো জন্মগত ত্রুটির সুচিকিৎসার বার্তাগুলো ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখা উচিত।
মন্তব্য করুন