বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে ডাচ-বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান রেডঅরেঞ্জ কমিউনিকেশনস। পরিবার পরিকল্পনা ও সামাজিক পরিবর্তনে উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তারা অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘পাওয়ার অব ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাওয়ার্ড’।
কলম্বিয়ার বোগোটায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফ্যামিলি প্ল্যানিং সম্মেলন (আইসিএফপি ২০২৫)-এ এই সম্মাননা পেয়েছে সংস্থাটি। প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, কেবল সেইসব প্রতিষ্ঠানকেই এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ডটি দেওয়া হয়।
এ বছর বিশ্বের মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এই সম্মাননা লাভ করেছে, যার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি সংস্থা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে রেডঅরেঞ্জ। রেডঅরেঞ্জ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে তাদের উদ্ভাবিত ‘ফাইভ ফর ওয়ান’নামে একটি বিশেষ মডেলের জন্য। এটি হলো কৌশলগত ও কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন (এসবিসিসি) করার মডেল। এই মডেলটির মূল ভাবনা খুব সহজ: সামাজিক পরিবর্তন তখনই আসে যখন পাঁচটি শক্তি একজোট হয়ে একই লক্ষ্যে কাজ করে।
এই পাঁচটি শক্তি হলো—লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগ, কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে যুক্ত করা এবং সবশেষে কম খরচে নতুন ও কার্যকর সমাধান তৈরি করা। রেডঅরেঞ্জের এই মডেলটিই প্রমাণ করেছে, এই পাঁচটি বিষয় একসঙ্গে কাজে লাগালেই সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কম খরচে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করার মধ্য দিয়ে জীবন বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টাসমূহকে স্বীকৃতি জানাতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। যারা স্বাস্থ্য, সমতা ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন ইতিবাচক উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে। পরিবার পরিকল্পনা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য নয়, বরং একটি উন্নত জীবন, সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই অ্যাওয়ার্ড সেই বার্তাই দেয়।
আইসিএফপি ২০২৫-এ এই সম্মাননা অর্জন প্রসঙ্গে রেডঅরেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তী বলেন, ‘এই স্বীকৃতি পেয়ে আমরা সত্যিই গভীরভাবে সম্মানিত এবং আমাদের পুরো টিমকে নিয়ে গর্বিত। আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, মানুষের কথা মন দিয়ে শুনলে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে, আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তবে যোগাযোগের শক্তি দিয়েই মানুষের জীবন বদলে দেওয়া যায়।’
এই স্বীকৃতি রেডঅরেঞ্জকে সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। রেডঅরেঞ্জ এখন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে মানুষের আচরণগত বিজ্ঞান, গল্প বলার কৌশল এবং নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে জটিল উন্নয়ন সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য করুন