ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার বোন বলেছিলেন, ‘ভারত তাকে বাঁচতে দেবে না’। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে ভারত-বিরোধী শক্ত অবস্থানে দেখা গেছে হাদিকে। এরপর থেকে প্রায় ৩০ বার ভারতীয় বিভিন্ন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও স্বভাবতই সন্দেহের তীর তাঁক হয় ভারতের দিকে।
এবার ভারতকে একহাত নিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ভারতকে সন্ত্রাসী-খুনিদের অভয়ারণ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘ভারত: সন্ত্রাসী, ভোট জালিয়াতিকারী, মাফিয়া এবং খুনিদের নিরাপদ আস্তানা’।
এর আগে, গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে একটি অস্ত্রোপচার শেষে পরিবারের সিদ্ধান্তে এভায়ারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেদিন ফেসবুক পোস্টে শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আল্লাহ আমার ভাইকে বাঁচাইয়া রাখো’।
রাতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়ের বিক্ষোভ মিছিলে অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়েছে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠগুলোকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে যেসব অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদের সামনে শুধু নির্বাচন নয়; বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যারা দেশকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল শরিফ ওসমান হাদির। গত নভেম্বর মাসেই তিনি জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে একটি পোস্টে ওসমান হাদি তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের ঘাতকদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছিলেন, গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো—আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।
মন্তব্য করুন