ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি খাতে চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় স্বল্পমেয়াদী (৩ মাস) কৌশল নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রসারণ করা হবে।
*যেসব পদক্ষেপ বিবেচনায় সরকারি আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
*বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, যা তেল ও এলএনজি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, আমদানির খরচ বেড়েছে, ডলার সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
*বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ছে
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—গ্যাস সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে বলা হয়েছে, এলএনজি সময়মতো পৌঁছালে স্বল্পমেয়াদে বড় সংকট নাও হতে পারে।
*শিক্ষা ও অফিসে কড়াকড়ি
জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসির তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
*এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পরই নির্ধারণ করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার
মন্তব্য করুন