Notice: Function add_theme_support( 'html5' ) was called incorrectly. You need to pass an array of types. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 3.6.1.) in /home/kolom24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5831 অধ্যক্ষের অনিয়মের লিলা খেলা, ১২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত অভিযোগ

অধ্যক্ষের অনিয়মের লিলা খেলা, ১২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত অভিযোগ

0

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কিশোরগঞ্জের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্থান পায় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ। সকল অভিভাবকদের মনে জায়গা করে নেয় এ বিদ্যাপীঠ। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সহিত প্রতিষ্ঠানটি অন্যতম বিদ্যাপীঠের স্থান অর্জন করে। ২০২০ সালের ২২শে জুন প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর মো. আল-আমিন। যোগদানের পর মাত্র ২ বছরে মধ্যেই তার অনিয়মের লিলা খেলা প্রকাশ্যে আসে। অবৈধভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, সরকারি পে-স্কেল লঙ্ঘন করে অবৈধ মনগড়া বেতন কাঠামো তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ, উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায়, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা না নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, কলেজের এফডিআর’র টাকা উত্তোলনসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমন কি নিজের অনিয়ম জায়েজ করতে কলেজের তৃতীয় শ্রেণির দুজন কর্মচারীকে ৯ মাস ধরে উচ্চ শিক্ষা ইনক্রিমেন্ট হিসেবে দিচ্ছেন পিএইচডি ও এমফিল ভাতা। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আল-আমিনের বিরুদ্ধে এমন সুনির্দিষ্ট ১২টি অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম বাবু সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম গত মঙ্গলবার (২রা আগস্ট) ৩ সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আল-আমিনের ক্ষমতার অপব্যবহার, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ ও কাল্পনিক ভাউচার তৈরি, পে-স্কেল-২০১৫ লঙ্ঘন করে মনগড়া বেতন কাঠামো তৈরি করণ এবং পিপিআর-২০০৮ উপেক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম করার ব্যাপারে তদন্ত অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়।

কলেজের এফডিআর (ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, কিশোরগঞ্জ) আনুমানিক ৬৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। যোগদানের পর থেকে এমপিওভুক্তির পূর্ব পর্যন্ত এমপিও’র সরকারি টাকা ও কলেজ প্রদত্ত বেতন উভয় টাকাই কলেজ তহবিল থেকে উত্তোলন করেন। এমপিওভুক্তির পরও কলেজ প্রদত্ত টাকা ফেরৎ প্রদান করেননি। অধ্যক্ষের মদদপুষ্ট শিক্ষকদের মাধ্যমে কলেজের প্রশাসনিক বাজেট তৈরি করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধ্যক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসী শয়নকক্ষ নির্মাণ করেন। কলেজের অধ্যক্ষ কৃত্রিম আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ৪ মাসের বেতন-ভাতাদি পরিশোধে তালবাহানা করছেন।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি কলেজটিতে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। এখন তিনি অনিয়ম দুনর্ীতি করে সে টাকা উঠাচ্ছেন। এতো টাকা খরচ করে নিয়োগ পেয়েছেন এখন সে টাকা কলেজ থেকে না উঠাতে পারলে তার লোকসান হবে। সভাপতির অসুস্থতার অযুহাত দেখিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে কলেজের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে কলেজে প্রচলিত রয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আল-আমিন বলেন, অনুমোদিত স্কেলে বেতন-ভাতা নেয়া হচ্ছে। স্কেলের চেয়ে বেশি আমি কীভাবে নিবো? বাজেট অনুমোদন হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দিয়েছে, সবকিছুই অনুমোদিত। দুজন কর্মচারীকে এমফিল/পিএইচডি ভাতা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটা এমফিল নয়, প্রবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে আহ্বায়ক এবং জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে সদস্য করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

শেয়ার করুন.

About Author

মন্তব্য করুন