ঢাকাসোমবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. দেশজুড়ে
  5. পজিটিভ বাংলাদেশ
  6. ফটো গ্যালারি
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. ভিডিও গ্যালারি
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু অভিযোগ

প্রতিবেদক
Kolom 24
জানুয়ারি ২৩, ২০২৩ ৮:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের সময় ভুল চিকিৎসায় রুপালী আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ করেছে স্বজনরা। এ নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালে হট্টগোল শুরু করলে মরদেহ গুম করে পালিয়ে যায় ক্লিনিক কতৃপক্ষ। পরে পুলিশ গিয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। রবিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের আল হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে। রুপালী সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় গ্রামের মো. পলিন ইসলামের স্ত্রী।

মৃতের স্বজনরা জানায়, চিকিৎসক আক্তার নাহার জ্যোতিকে দেখানোর জন্য রুপালীকে আল হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালে নিয়ে আসলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর বলা হয় পেটের বাচ্চা বড় হয়ে গেছে। রুপালীর বাচ্চা কোনোভাবেই নরমালে হবে না সিজারিয়ান অপারেশন লাগবে। রুপালীর স্বজনরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিজার করানোর জন্য রবিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসক আক্তার নাহার জ্যোতি (৩০), চিকিৎসক নাজমুল হাসান সোহেল (৪০), চিকিৎসক মাহমুদাসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন মহিলা ও পুরুষ এসে রুপালীর সিজার করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়া যায়। পরে রাত ৭টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে বলে সিজার সম্পন্ন হয়েছে এবং ছেলে বাচ্চা হয়েছে। তারপর প্রসূতি রুপালীর কথা জিজ্ঞেস করলে সুস্থ আছে বলে তাড়াহুড়ো করে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়ে। এরপর দুই-তিন ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও রুপালীকে দেখতে পারিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা জানতে পারি রুপালী ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে ও তার মরদেহ গুম করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ পালিয়ে যায়। পরে আমাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এলাকাবাসী আসলে পুলিশে খবর দেয়, পুলিশ এসে রুপালীর মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠ থেকে উদ্ধার করে।

রুপালীর মামা শশুড় মোঃ শরীফ, দেবর পাভেল ও মামা আতিকুল্লাহ বলেন, আমাদের মেয়ের লাশ মৃত্যুর পর আমাদেরকে না জানিয়ে হাসপাতালের লোকজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাঠে রেখে পালিয়ে যায়।আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয় জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে বার বার ফোন দিলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, রবিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে একটি নবজাতক হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে রুপালী নামে এক নারীর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক বাদল ওয়াহাব বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি মরদেহ মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

সিভিল সার্জন চিকিৎসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আল হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালটি অনুমোদনহীন। ইতিমধ্যে হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের সভাপতি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হাসপাতাল গড়ে উঠে। আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর আমরা শুনতে পাই। সঠিক তদারকি থাকলে অকালে প্রাণ ঝরতো না।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নবজাতককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি রুপালীর মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে রয়েছে। আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ বলেন, এ ঘটনায় অবহেলা জনিত চিকিৎসায় মামলার অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।